ঢাকা, ৬ নভেম্বর, ২০২৫ : বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, “৭ নভেম্বরের চেতনায় সকল জাতীয়তাবাদী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে শক্তিশালী গণতন্ত্র বিনির্মাণ করতে হবে।”
আগামীকাল ৭ নভেম্বর মহান জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এই আহ্বান জানান। দিবসটি উপলক্ষে দেশবাসীসহ সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান এবং দেশবাসীর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের সিপাহী-জনতার বিপ্লব শুধু মোড় পরিবর্তনকারী ঘটনা নয়, এটি আধিপত্যবাদ বিরোধী জাতীয়তাবাদী রাজনীতির অভ্যুদয়ের সূচনা। ওই বিপ্লবের মাধ্যমে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা পায়। তিনি বলেন, “সেদিন দেশপ্রেমে উদ্দীপ্ত হয়ে সিপাহী-জনতা রাজপথে নেমে এসেছিল জাতীয় স্বাধীনতা সুরক্ষা ও গণতন্ত্র পুনরুজ্জীবনের অঙ্গীকার নিয়ে।”
তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতাত্তোর সময়ে ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী নিজ স্বার্থে দেশকে আধিপত্যবাদের হাতে সঁপে দিয়েছিল, যার উদ্দেশ্য ছিল ক্ষমতা চিরদিন ধরে রাখা। একদলীয় বাকশাল গঠনের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে হত্যা করা হয়। ৭৫ সালের এই সংকটকালে ৩ নভেম্বর মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে বন্দি করা হয়। জাতির সেই গভীর সঙ্কটে ৭ নভেম্বর সৈনিক ও জনতার সংহতির মাধ্যমে জিয়া মুক্ত হন।
বিএনপি নেতা বলেন, “রাষ্ট্রপতি জিয়ার নেতৃত্বে দেশে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসে, বাক-ব্যক্তি ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সুপ্রতিষ্ঠিত হয়। মানুষের মনে স্বস্তি ফিরে আসে।” তিনি অভিযোগ করেন, আধিপত্যবাদী শক্তির দেশীয় দোসররা ১৯৮১ সালে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে পৈশাচিকভাবে রাষ্ট্রপতি জিয়াকে হত্যা করে। তবে তার আদর্শে বলীয়ান মানুষ আজও স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ।
তারেক রহমান আরও বলেন, “আবারও চক্রান্তের পথে আওয়ামী ফ্যাসিস্টরা প্রায় ১৬ বছর ধরে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছে। গুম, খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও অপশাসনের ভয়াল রাজত্ব কায়েম করেছে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে বন্দি করে বহু বছর মুক্তি দেওয়া হয়নি।”
তিনি বলেন, “৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিস্টরা দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়। এখন অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রের চর্চা নিশ্চিত করতে হবে।”
বাণীতে তিনি আরও বলেন, “৭ নভেম্বরের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে জাতীয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা এখন অত্যন্ত জরুরি।”





