স্টাফ রিপোর্টার | ১৫ নভেম্বর ২০২৫ | নিউজ চ্যানেল বিডি | চাপাইনবাবগঞ্জ
চাপাইনবাবগঞ্জে এক জনসমাবেশে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, প্রধান উপদেষ্টা ঘোষিত আগামী ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই। নির্বাচন নিয়ে টালবাহানা করলে দেশ আরও দুর্বল হয়ে পড়বে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
বিএনপি মহাসচিব বলেন,
“জনগণের সমর্থন ছাড়া কোনো সরকার দেশ পরিচালনা করতে পারে না। তারপরও একটা গুষ্টি নির্বাচন পিছানোর অপচেষ্টা করছে। অথচ আপনাদের পোস্টার–ব্যানারে দেশ ভরা—তাহলে মানুষকে কেন বোকা বানাচ্ছেন? নির্বাচন না করলে আপনাদের টিকে থাকার কোনো উপায় নেই।”
মির্জা ফখরুল দাবি করেন, নির্বাচিত সরকার না থাকায় দেশের অর্থনীতি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে, বিদেশি বিনিয়োগ কমে গেছে। তিনি বলেন,
“আন্তর্জাতিক মহলও এখন নির্বাচিত সরকার চায়।”
২০০১ সালের নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, রাজশাহী ও রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলে তখন বিএনপি ৭৭টি আসন পেয়েছিল। এবার আরও বেশি আসন পাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। নতুন প্রজন্মকে সত্যিকারের স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ গড়ে তুলতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান বিএনপি মহাসচিব।

পানিবণ্টন, সীমান্ত হত্যা ও বাণিজ্যিক সিদ্ধান্তে ভারতের ‘দাদাগিরি’ বন্ধের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন,
“আমরা মর্যাদার ভিত্তিতে সমান সম্পর্ক চাই। অন্যথায় ভারত কখনোই বাংলাদেশের মানুষকে সত্যিকারের বন্ধু হিসেবে পাবে না।”
তারেক রহমানকে ‘অক্লান্ত পরিশ্রমী নেতা’ হিসেবে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন,
“হাজার মাইল দূর থেকে তিনি আমাদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ঐ ফ্যাসিস্ট সরকারের দমন-পীড়নে শত শত কর্মী প্রাণ দিয়েছে। ২৪ এর, জুলাই আগস্টের দমন-পিড়ন অভিযানে প্রায় দুই হাজার শিশু-নারী শহীদ হয়েছে।”
তিনি অভিযোগ করেন, হাসিনা আবারও সহিংসতা সৃষ্টি করে নির্বাচন বানচালের চক্রান্ত করছে। দিল্লিতে বসে হুমকি ধামকি দিচ্ছে, আপনারা কি আর শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে দেখতে চান?
“ফ্যাসিস্ট শক্তি যেন আর মাথা তুলে দাঁড়াতে না পারে—এই দায়িত্ব আপনাদের নিতে হবে,” বলেন তিনি।
শেষে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন,
“নির্বাচন না হলে বাংলাদেশ ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হবে। তাই দেশের স্বার্থে সবাইকে ভোট দিতে হবে। ইনশাল্লাহ আবারও ধানের শীষ জয়ী হবে।”





