মির্জা ফখরুলের সতর্কবার্তা: গণতন্ত্রের পথ আটকে দিচ্ছে কিছু মহল

মওলানা ভাসানীর ৪৯তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভায় বিএনপি মহাসচিবের মন্তব্য

Posted by:

on

স্টাফ রিপোর্টার | ১৬ নভেম্বর ২০২৫ | নিউজ চ্যানেল বিডি


‘দেশে একটি মহল নৈরাজ্য সৃষ্টির পায়তারা করছে’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
রোববার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে মওলানা ভাসানীর ৪৯তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপির গঠিত জাতীয় কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন,
“আগামীকাল ফ্যাসিস্ট হাসিনার গণহত্যার বিরুদ্ধে যেটা ট্রায়াল হয়েছে তার রায় বেরুবে। এ নিয়ে সারাদেশে একটা অনিশ্চয়তা, একটা আতঙ্ক বিরাজ করছে—এটা বলার অপেক্ষা রাখে না। একটা মহল আবার নৈরাজ্য সৃষ্টির জন্য পায়তারা করছে।”

তিনি বলেন,
“এই নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে আমাদের আজকে রুখে দাঁড়াতে হবে।”

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে ঐক্যের আহ্বান

বিএনপি মহাসচিব বলেন,
“বাংলাদেশের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে যে সুযোগ আমরা পেয়েছি, সেটা যেন নষ্ট না হয়। গণতন্ত্রের উত্তরণের পথ আরও সহজ করতে আমাদেরকে কাজ করতে হবে।”

তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন,
“গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। মওলানা ভাসানীর আদর্শ সামনে রেখে দেশে প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে।”

রাজনীতিতে বিভ্রান্তির অভিযোগ

মির্জা ফখরুল বলেন,
“আজকে দেশের রাজনীতি একটা বিভ্রান্ত অবস্থার মধ্যে আছে—কনফিউজ পলিটিক্স। এমন অনেক বিষয় রাজনীতিতে ঢুকছে যেটা বাংলাদেশের আত্মা নয়, চরিত্র নয়।”

তিনি আরও বলেন,
“আমরা ১৬ বছর ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি। আমাদের অসংখ্য নেতাকর্মী গ্রেফতার, নিখোঁজ, মিথ্যা মামলার শিকার ও শহীদ হয়েছেন। ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানের পর মানুষের আকাঙ্ক্ষা পূরণের যে সুযোগ এসেছে, সেটা আমরা ঠিকভাবে ধরতে পারছি না।”

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রসঙ্গ

বিএনপি মহাসচিব বলেন,
“অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জনগণের সমর্থন নিয়ে এসেছে। তারা রাজনৈতিক কাঠামোকে সঠিক পথে আনার চেষ্টা করছে। তবে তাদের কার্যক্রম জনগণের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ—বলবার সময় এখনো আসেনি।”

তিনি জোর দিয়ে বলেন,
“নির্বাচনই একমাত্র পথ, যার মাধ্যমে গণতন্ত্রে উত্তরণ সম্ভব। জনগণের আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলিত করতে হলে নির্বাচনের বিকল্প নেই।”

নির্বাচনকে ঘিরে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ

মির্জা ফখরুল বলেন,
“২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কিন্তু কিছু গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করছে—বিভিন্ন দাবি তুলে নির্বাচনকে বিলম্বিত বা ব্যাহত করতে চাইছে।”

তিনি বলেন,
“এই দেশের মানুষের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন—একটি নির্বাচিত সরকার। তাই আর দেরি না করে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে সমর্থন জানিয়ে জনগণের প্রতিনিধি নির্বাচিত করার সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।”

অর্থনীতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ

বিএনপি মহাসচিব বলেন,
“দেশের অর্থনীতি খারাপের দিকে যাচ্ছে—নির্বাচিত সরকার না থাকলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও অবনতির দিকে—নির্বাচিত সরকার না থাকলে এটিও আরও খারাপ হবে।”

সভায় আরও যারা বক্তৃতা করেন

সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব শামসুজ্জামান দুদু এবং সঞ্চালনা করেন ওএসকে সাদী।

এছাড়া বক্তব্য দেন—
অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ,
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল,
যুগ্ম মহাসচিব আব্দুস সালাম আজাদ,
মহিলা দলের নেত্রী হেলেন জেরিন খান,
জাসাসের হেলাল খান,
কৃষক দলের তকদীর হোসেন মো. জসিম প্রমুখ।