স্টাফ রিপোর্টার, ১৭ নভেম্বর ২০২৫, নিউজ চ্যানেল বিডি।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকার দুইটি পথ অনুসরণ করতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন ট্রাইব্যুনালের চীফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, প্রথমত বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ২০১৩ সালের অপরাধীর বহিঃসমর্পণ (Extradition) চুক্তি অনুযায়ী ভারত সরকারের কাছে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের ফেরত চাওয়া হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ন্যায়বিচার ও আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হলে ভারত সরকার তাদের ফেরত দেবে।
দ্বিতীয়ত, তিনি বলেন, ইন্টারপোল নোটিসের মাধ্যমে আন্তর্জাতিকভাবে গ্রেপ্তার করে তাদের বাংলাদেশে ফেরত আনা সম্ভব। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যৌথভাবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।
তাজুল ইসলাম জানান, রায়ের বিরুদ্ধে ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করা যাবে, তবে পলাতক অবস্থায় কেউ আপিল করতে পারবেন না। আপিল করতে হলে অবশ্যই দেশে এসে আত্মসমর্পণ করতে হবে। তিনি বলেন, “পলাতক ব্যক্তির কোনো আইনগত অধিকার থাকে না। আত্মসমর্পণের পরই সুপ্রিম কোর্টে আপিল সম্ভব।”
মানবতাবিরোধী অপরাধের সংজ্ঞা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের অপরাধ হতে হলে আক্রমণটি ব্যাপক (Widespread) বা পদ্ধতিগত (Systematic) হতে হয়। আদালত তার রায়ে বলেছে, ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টে ছাত্রজনতার ওপর হওয়া আক্রমণ ছিল সারা দেশজুড়ে ব্যাপক এবং রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ স্তর থেকে নিম্নস্তর পর্যন্ত কমান্ড চেইনের মাধ্যমে পরিচালিত—a fully systematic attack। দণ্ডপ্রাপ্তরা জেনে-বুঝেই এসব অপরাধ করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, বিচার চলাকালীন সময়ে আসামিরা বিচারক, সাক্ষী ও ট্রাইব্যুনাল সংশ্লিষ্টদের হত্যার হুমকি দিয়েছিল। এই অপরাধে শেখ হাসিনার ছয় মাসের কারাদণ্ড হয়েছে—আদালতের পর্যবেক্ষণেও এটি উঠে এসেছে।
রায়ের স্বচ্ছতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিচার প্রক্রিয়া আন্তর্জাতিকমানের ছিল, কোথাও মিথ্যা সাক্ষ্য বা অনিয়মের অভিযোগ ওঠেনি। অনেক বিচার সরাসরি লাইভ প্রচারিত হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি দাবি করেন, “যেকোনো দেশে এই এভিডেন্স উপস্থাপন করলে একই সাজা হতো।”
নিম্নস্তরের অন্য আসামিদের বিচারে এই রায় একটি জুডিশিয়াল নজির হিসেবে কাজ করবে বলে মন্তব্য করেন চীফ প্রসিকিউটর। তবে প্রতিটি মামলায় স্বতন্ত্র প্রমাণ গুরুত্ব পাবে এবং প্রতিটি আসামি তার নির্দোষিতা প্রমাণের সুযোগ পাবেন।
শেষদিকে তিনি অভিযোগ করেন, রায়ের পর রাতভর বিদেশি নম্বর—বিশেষত ভারতীয় নম্বর—থেকে প্রসিকিউটরদের ফোন করে গালাগাল ও হুমকি দেওয়া হয়েছে। তবে এগুলোকে তারা আমলে নিচ্ছেন না। “অপরাধীরা অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার পর এ ধরনের আচরণ করে,” বলেন তিনি।
তিনি আরও জানান, আপিল হলে সুপ্রিম কোর্ট ৬০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করবে। যারা নিজেদের নির্দোষ মনে করেন, তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন—“সাহস থাকলে বাংলাদেশে এসে আত্মসমর্পণ করুন এবং আইনের মোকাবিলা করুন।”
আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের চীফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলামের এসব মন্তব্য সংবাদ সম্মেলনের শেষ দিকে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে উঠে আসে।





