স্টাফ রিপোর্টার | ১১ জানুয়ারি ২০২৬ |নিউজ চ্যানেল বিডি
গত ২৩ ডিসেম্বর ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর দিনাজপুরের হোমতাবাদ এলাকা থেকে বাংলাদেশি দুই টাকার ৬০০টি নতুন নোট উদ্ধার করেছে দেশটির কাস্টমস বিভাগ। এ ঘটনার পর থেকেই দেশে জাল টাকার বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
এর আগে অক্টোবরে চট্টগ্রামে প্রায় ২০ কোটি টাকার জাল নোট উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। একই সময়ে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া থেকে জব্দ করা হয় এক কোটি টাকার জাল টাকা। এসব অভিযানে ডলার ও ইউরোসহ বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক জাল মুদ্রাও উদ্ধার হয়।
সম্প্রতি যশোরের কেশবপুর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে জাল টাকা। এমনকি শেরপুরের একটি পোস্ট অফিস থেকে গ্রাহকের কাছে জাল টাকা সরবরাহের ঘটনাও প্রকাশ্যে এসেছে। ফলে গ্রামেগঞ্জে ছড়িয়ে পড়া জাল টাকা এখন জাতীয় অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি পরিকল্পিতভাবে প্রায় দুই লক্ষ কোটি টাকা দেশের ভেতরে প্রবেশ করানো হয়, তাহলে সামনে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একটি বড় ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করা সম্ভব। একজন বিশ্লেষক বলেন, “আমি নোট ছাড়লাম, আবার সেই নোট জাল আকারে ছড়ালাম—এভাবে একসঙ্গে দুইটি অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে।”
এই পরিস্থিতিতে সম্প্রতি একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ডিজিএফআই, এনএসআই, সিআইডিসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
এদিকে মাঠ প্রশাসন ও পুলিশ নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছে, ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে আসা ঠেকাতে অর্থ ছড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি ভোটের আগে মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে অবৈধ লেনদেন ঠেকাতে কঠোর নজরদারির সুপারিশ করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস একটি প্রচলিত ও বৈধ লেনদেনের মাধ্যম। এরপরও যদি কোনো সন্দেহজনক লেনদেন নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে মনে হয়, তাহলে তা যাচাই করার সক্ষমতা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে সবার দৃষ্টি নির্বাচনকে ঘিরে থাকায় শুধু সীমান্তে নয়, দেশের অভ্যন্তরেও জাল টাকা শনাক্তে নজরদারি বাড়ানো জরুরি। তারা বলেন, দীর্ঘ সময় পর অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তিকে দেশছাড়া হতে দেখা গেছে, তবে তারা বসে নেই। যেকোনোভাবে অস্থিতিশীলতা তৈরি করাই তাদের লক্ষ্য।
বিশ্লেষকরা আরও বলেন, সরকারের বিভিন্ন ইউনিট থাকলেও লিড টাইম বেশি হওয়ায় ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে। প্রভাব পড়ার আগেই জাল টাকা শনাক্ত করা গেলে ভোগান্তি ও অর্থনৈতিক ক্ষতি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
জাল টাকার ঝুঁকি ও ক্ষতি এড়াতে বড় অংকের অর্থ লেনদেনে ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।





