স্টাফ রিপোর্টার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৫, নিউজ চ্যানেল বিডি।
ঢাকা–৬ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী বলেছেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আগামী ২৫ তারিখ বাংলাদেশে আসবেন। ওই দিন তাকে কোটি মানুষের গণসংবর্ধনার মাধ্যমে বরণ করে নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, “তারেক রহমানের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই। জনগণ বুক পেতে দিয়ে তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। ইনশাআল্লাহ, কোটি কোটি বুক ভেদ করে এমন কোনো শক্তি নেই, যা আমাদের নেতার ক্ষতি করতে পারবে।”
রবিবার (২১ ডিসেম্বর) রাজধানীর গোপীবাগে জিয়া মাঠের পাশে নাজমা টাওয়ারে ওয়ারী থানার ৩৯ নম্বর ওয়ার্ড মহিলা দলের উদ্যোগে এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
ইশরাক হোসেন বলেন, নারীদের অংশগ্রহণ ছাড়া আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়া সম্ভব নয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের মোট ভোটারের প্রায় ৫২ শতাংশ নারী। নারীরা ভোটাধিকার চর্চায় এগিয়ে এলে রাষ্ট্র পরিচালনায় বড় পরিবর্তন আসবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি জানান, ক্ষমতায় এলে নারীদের জন্য বিশেষ আইন ও নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে।
এছাড়া তিনি বলেন, বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচির আওতায় নিম্নবিত্ত ও প্রান্তিক পরিবারের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হবে, যা পরিবারের গৃহিণীর নামে ইস্যু করা হবে। এতে নারীরা আর্থিকভাবে ক্ষমতায়িত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
নির্বাচন প্রসঙ্গে ইশরাক বলেন, বিএনপি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চায় এবং জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারই দেশ পরিচালনা করবে। ভোট কারচুপি রোধে পোলিং এজেন্টদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। নারী ভোটকেন্দ্রে শুধু নারী পোলিং এজেন্ট নিয়োগের সিদ্ধান্তের কথাও উল্লেখ করেন।
তিনি -এর কঠোর সমালোচনা করে বলেন, “বিগত ১৭ বছরে দেশে ভোটের অধিকার ধ্বংস করা হয়েছে। দিনের ভোট রাতে হয়েছে। নির্বাচন ব্যবস্থাকে ভেঙে ফেলা হয়েছে।” তার অভিযোগ, আওয়ামী লীগ এখন গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল নয়, বরং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত।
ইশরাক আরও বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে লুটপাট ও পাচার হওয়া অর্থ বিদেশ থেকে ফিরিয়ে এনে জনগণের কল্যাণে ব্যয় করা হবে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ আবার অর্থনৈতিকভাবে ঘুরে দাঁড়াবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
একটি হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “হাদি কেন আজ এই হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়ে শাহাদাত বরণ করতে হয়েছে? বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, জনগণের অধিকার, ন্যায় ও ইনসাফের রাজনীতির পক্ষে তিনি ছিলেন আপসহীন।” তিনি দাবি করেন, এই অবস্থানের কারণেই তাকে হত্যা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “হাদিরা কখনো মরে না। একজন হাদি শহীদ হলে লক্ষ হাদি জন্ম নেয়।” তিনি উল্লেখ করেন, হাদির রাজনৈতিক অনুপ্রেরণা ছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি ।
ঢাকা–৬ আসনের ভোটারদের উদ্দেশে ইশরাক হোসেন বলেন, “আমি আপনাদের এলাকার সন্তান। আপনাদের ভোটে নির্বাচিত হয়ে সংসদে যেতে পারলে গ্যাস সংকট, জলাবদ্ধতা, ময়লা-আবর্জনা ও নাগরিক সেবার সমস্যা সমাধানে জোরালো ভূমিকা রাখবো।”
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ওয়ারী থানা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সাব্বির আহমেদ আরিফ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মুকীতুল আহসান রঞ্জু, ওয়ারী থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক গোলাম মোস্তফা সেলিমসহ বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ।





