ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় দুই নেতা সহ ৬ জনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

১৩ বছর আগের মামলায় ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সভাপতি রেজওয়ানুল হক সবুজ এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক সোহাগ মোল্লাসহ ছয়জনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ…

১৩ বছর আগের মামলায় ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সভাপতি রেজওয়ানুল হক সবুজ এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক সোহাগ মোল্লাসহ ছয়জনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকার সিএমএম আদালতের ৫ নম্বর আদালত।

দণ্ডপ্রাপ্ত অন্যরা হলেন—

সরকারি তিতুমীর কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আউয়াল,

ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শরিফুল আলম মাসুম,

তিতুমীর কলেজ ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল হান্নান মামুন,

রাশেদ উল্লাহ রাশেদ।

২০১২ সালের ৯ ডিসেম্বর রাজধানীর বনানী এলাকায় সড়ক অবরোধের ঘটনায় দ্রুত বিচার আইনে বনানী থানায় মামলা দায়ের করে পুলিশ। একই বছরের ১৯ ডিসেম্বর তদন্ত শেষে ১০ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। পরবর্তীতে ২০১৩ সালের ২২ জানুয়ারি আদালত অভিযোগ গঠন করেন এবং রাষ্ট্রপক্ষ থেকে ছয়জন সাক্ষী হাজির করা হয়।

আজ রোববার আসামিরা আদালতে আত্মসমর্পণ করলে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আসামিপক্ষে আইনজীবী ইলতুৎমিশ সওদাগর এ্যানি সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা আদালতে ন্যায়বিচার পাইনি। জামিন করানোর জন্য আমরা উচ্চ আদালতে যাব।”


রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার শাসনামলে যেসব ছাত্রনেতা ঢাকার রাজপথ কাঁপিয়েছিলেন, তাদের মধ্যে সরকারি তিতুমীর কলেজ ছাত্রদল ছিল অন্যতম। এই কলেজের ছাত্রদলের ওপরই প্রথম গুলি চালানো হয় এক হরতালের সময়, তৎকালীন পুলিশ কর্মকর্তা বিপ্লবের নেতৃত্বে।

২০১১-১২ সালে শেখ হাসিনা ও তার পুলিশের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে যেসব ছাত্রদল নেতা রাস্তায় বেগম খালেদা জিয়া ও বিএনপির পক্ষে মিছিল-সংগ্রাম পরিচালনা করেছেন, তাদের মধ্যে তিতুমীর কলেজ ছাত্রদলের নেতা সোহাগ মোল্লা ও শরিফুল আলম মাসুম ছিলেন অগ্রভাগে।

গণতান্ত্রিক অধিকার হিসেবে হরতাল-আন্দোলনে অংশ নেওয়া সত্ত্বেও শেখ হাসিনা তাদের দমন করার জন্য দ্রুত বিচার আইনে মামলা দিয়ে সাজা দিয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়।