স্টাফ রিপোর্টার | ৮ জানুয়ারি ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি
বাংলাদেশের আজাদী আন্দোলনের সকল শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে বিশেষ করে ২৪ জুলাই বিপ্লবের শহীদদের আত্মত্যাগের কথা তুলে ধরে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন সাদেক কায়েম। তিনি বলেন, জুলাই শহীদদের রক্তের বিনিময়েই আজ স্বাধীন মত প্রকাশ, সুস্থ রাজনীতি ও ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে।
সাদেক কায়েম তাঁর বক্তব্যে শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদীসহ জুলাই বিপ্লব এবং বাংলাদেশের আজাদী আন্দোলনের সকল শহীদের জন্য জান্নাতুল ফেরদৌস কামনা করেন। তিনি বলেন, আধিপত্যবাদ ও আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ-প্রতিরোধ এবং ইনসাফ কায়েমের যে আকাঙ্ক্ষা শহীদরা রেখে গেছেন, তা বাস্তবায়ন করাই বর্তমান প্রজন্মের প্রধান দায়িত্ব।
তিনি আরও বলেন, জুলাই বিপ্লব পরবর্তী সময়ে দেশের ক্যাম্পাস রাজনীতিতে একটি নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। ইতোমধ্যে দেশের পাঁচটি বড় বিশ্ববিদ্যালয়ে সফলভাবে ছাত্র সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন হওয়াই তার প্রমাণ। এক সময় যেসব ক্যাম্পাস সন্ত্রাস ও দখলদারিত্বের কেন্দ্র ছিল, সেগুলো আজ শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও মত প্রকাশের স্বাধীন পরিবেশে পরিণত হয়েছে।
ডাকসু, জাকসু, রাকসু, চাকসু ও জকসু নির্বাচনের প্রসঙ্গে সাদেক কায়েম বলেন, এসব নির্বাচনে কেউ জয়ী বা পরাজিত হয়নি—এখানে প্রকৃত বিজয়ী শিক্ষার্থীরাই। এই পরিবর্তনের সম্পূর্ণ কৃতিত্ব তিনি জুলাই বিপ্লবের শহীদদের দেন। একই সঙ্গে যশোরসহ বিভিন্ন ছাত্র সংসদের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা এই অর্জনের ক্রেডিট জুলাই শহীদদের, বিশেষ করে শহীদ উসমান বিন হাদীকে উৎসর্গ করেছেন বলেও তিনি জানান।
আগামী দিনে ক্যাম্পাসগুলোতে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, মাসল পলিটিক্স ও নিপীড়নের রাজনীতি আর ফিরে আসবে না—এমন প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে করা প্রতিটি কমিটমেন্ট বাস্তবায়ন করা হবে এবং আরও উন্নত মানের ক্যাম্পাস রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করা হবে।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে সাদেক কায়েম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত প্রায় তিন কোটি তরুণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন জরুরি। তিনি নির্বাচন কমিশনের প্রতি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করার আহ্বান জানান এবং সকল রাজনৈতিক দলকে দায়িত্বশীল আচরণের অনুরোধ করেন।
তিনি আরও বলেন, গত ১৬ বছরে সংঘটিত গুম, খুন ও জুলাই বিপ্লবসহ সকল হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে হবে। ফ্যাসিবাদী কাঠামো বিলোপ করে একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে ছাত্র সংসদগুলো ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ চালিয়ে যাবে।
শেষে সাদেক কায়েম জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদকে অভিনন্দন জানান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সঙ্গে একযোগে শিক্ষার্থীদের স্বার্থ ও দেশের ইনসাফের প্রশ্নে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।





