ফেনীতে টানা ভারী বর্ষণ এবং ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের অন্তত ১৭টি স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এর ফলে ফুলগাজী ও পরশুরাম উপজেলার ৩০ থেকে ৩৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এই প্লাবিত গ্রামগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে।
ক্ষয়ক্ষতি ও বর্তমান পরিস্থিতি:
- মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীর বাঁধের বিভিন্ন স্থানে ভাঙনের ফলে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করে ব্যাপক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।
- ফুলগাজী ও পরশুরাম উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে, যার ফলে হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।
- আবাসিক এলাকা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বৈদ্যুতিক মিটার ও সাব-স্টেশনগুলো পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় দুর্ঘটনা এড়াতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় ইন্টারনেট ও মোবাইল সংযোগও ব্যাহত হচ্ছে।
- ফেনী-পরশুরাম আঞ্চলিক সড়কের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় ছোট-বড় সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে, এতে পরশুরাম উপজেলার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
- গত ২৪ ঘণ্টায় ফেনীতে সর্বোচ্চ ৪৪০-৪৪১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
- মুহুরী নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যদিও কিছু এলাকায় পানির স্তর কিছুটা কমেছে, তবে উজানে বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।
- ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মানুষদের জন্য স্থানীয় প্রশাসন মোট ১৩১টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রেখেছে এবং শুকনো খাবার ও রান্না করা খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে স্থানীয়দের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। অনেকেই গত বছরের বন্যার ক্ষয়ক্ষতি থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর আগেই আবারও একই বিপদের সম্মুখীন হয়েছেন।





