বাগেরহাটে শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ

রণজিৎপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা শিক্ষককে ঘিরে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ, তদন্তের দাবি

আজাদ রুহুল আমিন , ২৭ এপ্রিল ২০২৬, নিউজ চ্যানেল বিডি বাগেরহাট।

বাগেরহাট সদর উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের রণজিৎপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা শিক্ষক সরদার মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের সঙ্গে অসদাচরণ ও অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয়ের নবম ও দশম শ্রেণির একাধিক শিক্ষার্থী তার বিরুদ্ধে অশোভন মন্তব্য, অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শ এবং মানসিকভাবে বিব্রতকর আচরণের অভিযোগ করেছেন।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ক্লাসে এসে প্রায়ই ছাত্রীদের সঙ্গে অস্বস্তিকর আচরণ করেন। কখনো অপ্রাসঙ্গিক মন্তব্য করেন, কখনো অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে স্পর্শ করেন। এতে অনেক শিক্ষার্থী মানসিকভাবে অস্বস্তিতে পড়ছেন বলে জানান।

নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী বলেন, শিক্ষক মাঝে মাঝে এমন মন্তব্য করেন, যা তাদের বিব্রত করে। কখনো ব্যক্তিগত সীমা লঙ্ঘন করে আচরণ করেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

আরেক শিক্ষার্থী জানান, শিক্ষক প্রায়ই ছাত্রীদের উদ্দেশে এমন কথা বলেন, যা একজন শিক্ষকের কাছ থেকে প্রত্যাশিত নয়। এতে তারা ক্লাসে স্বাভাবিকভাবে থাকতে পারেন না।

দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী বলেন, শিক্ষক পড়াশোনার বাইরে ব্যক্তিগত ও অস্বস্তিকর আচরণ করেন। কখনো অপমানজনক কথাও বলেন। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভয় ও অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।

আরেক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে স্কুল থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। অনেক সময় এমন অশোভন কথা বলা হয়, যা তারা পরিবারকেও বলতে পারেন না।

অভিযোগের বিষয়ে শারীরিক শিক্ষা শিক্ষক সরদার মাহবুবুর রহমানের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

এক অভিভাবক জানান, শিক্ষকের আচরণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় আলোচনা রয়েছে। তিনি দাবি করেন, তার মেয়ের নিরাপত্তার কথা ভেবে বিদ্যালয় পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছেন। বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন তিনি।

বাগেরহাট সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোসা. আতিয়া খাতুন বলেন, রণজিৎপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা শিক্ষক মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে এখনো তার কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে এবং অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাগেরহাট জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাদেকুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে কিছু আপত্তিকর বিষয় তার নজরে এসেছে। বিষয়টি তদন্ত করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, শিক্ষক সমাজে সম্মানীয় ব্যক্তি। অভিভাবকরা যদি শিক্ষকের কাছে সন্তানদের নিরাপদ মনে না করেন, তাহলে সেটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। একজন শিক্ষকের কাছ থেকে এ ধরনের আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়।

ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।