স্টাফ রিপোর্টার, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬, নিউজ চ্যানেল বিডি
বিশ্লেষক তাসনিম জারা বলেছেন, যখন ক্ষমতাসীন ব্যক্তি—মন্ত্রী, সংসদ সদস্য বা প্রধানমন্ত্রী—নিজেই মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিযুক্ত হন, তখন তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার কাঠামো অত্যন্ত দুর্বল। তিনি বলেন, বর্তমান ব্যবস্থায় কার্যকর ও নিরপেক্ষভাবে এই ধরনের অভিযোগ মোকাবিলা করার কোনো কার্যকর প্রক্রিয়া নেই।
তাসনিম জারা আরও বলেন, মানবাধিকার কমিশন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হলেও, তার নিয়োগ ও বাছাই প্রক্রিয়ার দুর্বলতা প্রায়ই নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ করে। কমিশনের বাছাই কমিটিতে রয়েছেন আইনমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, জাতীয় সংসদের স্পিকার, স্পিকার মনোনীত দুইজন সংসদ সদস্য (একজন সরকারি দল ও একজন বিরোধী দল থেকে), আইন কমিশনের চেয়ারম্যান এবং মন্ত্রিপরিষদ সচিব।
তিনি উল্লেখ করেন, “যাদের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ আসতে পারে, তারাই বাছাই কমিটির সদস্য। ফলে কমিশন কার্যত শীর্ষ ক্ষমতাসীনদের প্রভাবমুক্তভাবে বিচার করতে পারে না।”
তাসনিম জারা বলেন, রাষ্ট্রপতি কমিশনের সদস্য নিয়োগ দেন, কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ছাড়া রাষ্ট্রপতি স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না, যা জবাবদিহিতা প্রক্রিয়াটিকে আরও দুর্বল করে তোলে।
তিনি আরও মন্তব্য করেছেন, অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান যেমন বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশনও কার্যকরভাবে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে না। বিশেষ করে যদি প্রধানমন্ত্রী বা শীর্ষ ক্ষমতাসীন ব্যক্তি দুর্নীতি বা মানবাধিকার লঙ্ঘনে অভিযুক্ত হন, তবে এই বাধাগুলো আরও স্পষ্ট হয়।
তাসনিম জারা বলেন, গণতন্ত্রে সাধারণত শেষ জবাবদিহিতার মাধ্যম হলো নির্বাচন। তবে বাস্তবতা দেখায় যে, নির্বাচন ব্যবস্থাও বারবার প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। ভোট কারচুপি এবং প্রভাব বিস্তারের কারণে জনগণের প্রকৃত মতামত সবসময় প্রতিফলিত হয় না।
তিনি উল্লেখ করেন, “বর্তমান পরিস্থিতিতে নাগরিকরা মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী বা দুর্নীতিগ্রস্ত সরকারের বিরুদ্ধে সরাসরি অভ্যুত্থান বা আন্দোলনের মাধ্যমে প্রতিবাদ করার পথ ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প পায় না।”
তাসনিম জারা মন্তব্য করেছেন, সাংবিধানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের অভাবেই মানবাধিকার লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা কার্যকরভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। নাগরিকদের অধিকার রক্ষার জন্য এমন একটি কাঠামো দরকার, যেখানে ক্ষমতাসীন ব্যক্তিও আইনের ঊর্ধ্বে থাকতে পারবে না।





