রাষ্ট্র ও রাজনৈতিক দল সমান্তরাল সংস্কারে না গেলে পরিবর্তন সম্ভব নয়

দলের নেতৃত্বে মেয়াদ সীমা, প্রধানমন্ত্রী ও দলপ্রধান আলাদা করার দাবি; ফুটপাতের মানুষকে সংস্কারের বাইরে রাখলে বিপর্যয়ের সতর্কতা

স্টাফ রিপোর্টার | ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি

এবি পার্টির মজিবুর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের রাষ্ট্র সংস্কার করতে হলে রাজনৈতিক দলগুলোকেও সমান্তরালভাবে নিজেদের ভেতরে সংস্কার আনতে হবে। তিনি বলেন, বিএনপির চেয়ারপারসনের মেয়াদ ১০ বছরের বেশি না রাখার মতো সংশোধনী তাদের দলীয় সংবিধানে আছে কি না, কিংবা গণফোরাম তা এনেছে কি না—এসব প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ।

মজিবুর রহমান জানান, এনসিপি ও এবি পার্টির সংবিধানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে যে দলের প্রেসিডেন্ট বা সেক্রেটারি টানা দুই বা তিনটির বেশি মেয়াদে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। পাশাপাশি দলীয় সংবিধানে প্রধানমন্ত্রী ও দলের প্রধান একই ব্যক্তি হতে পারবেন না—এমন বিধানও যুক্ত করা হয়েছে, যা রাষ্ট্র সংস্কারের প্রস্তাব হিসেবেও উত্থাপন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, রাষ্ট্র এবং রাজনৈতিক দল যদি নিজেদের সংস্কার ইস্যুগুলো একসাথে গ্রহণ না করে, তাহলে সে সংস্কার হবে ম্যানিপুলেটেড এবং বিভিন্নভাবে বিভ্রান্ত করা হবে। সাধারণ মানুষ স্কুল টিম, কম্বল, চিকিৎসার খরচ বা মেয়ের বিয়ের সহায়তাকেই সংস্কার মনে করে। এই বাস্তবতাকে অবহেলা করা যাবে না।

মজিবুর রহমান ফুটপাতের মানুষের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, যাদের ঘর পুড়ে যায় তারা সংবিধান বা মানচিত্র বোঝে না, তারা বোঝে ক্ষুধা। এসব মানুষকে পুনর্বাসন ও সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় না আনলে ভবিষ্যতে বড় সামাজিক সংঘাত তৈরি হতে পারে। তিনি সতর্ক করে বলেন, একদিন যদি এই মানুষগুলো সচেতনভাবে সংগঠিত হয়, তাহলে ধনী এলাকাগুলো রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে।

তিনি আরও বলেন, দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ জানে না যে তারা পরোক্ষভাবে রাষ্ট্রকে কর দেয়। মোবাইল ব্যবহার, পোশাক, চশমা বা ঘড়ির মাধ্যমেও কর দেওয়া হয়—এই বিষয়টি বোঝানোর পর অনেকের মধ্যেই নাগরিক দায়িত্ববোধ তৈরি হয়।

মজিবুর রহমান শেষাংশে বলেন, নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত নিয়ে যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, চলমান নির্বাচনী বাস্তবতায় তা বাস্তবায়ন করা যায়নি। সেই ব্যর্থতার জন্য ক্ষমা চেয়ে তিনি বলেন, জনগণ ক্ষমা করুক বা না করুক, ইতিহাসের কাছে তারা দায়বদ্ধ থাকবেন এবং সংস্কারের লড়াই চালিয়ে যাবেন—এটাই তাদের অঙ্গীকার।