স্টাফ রিপোর্ট | ১০ জানুয়ারি ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি
সরকারের সাফল্য নিয়ে সমালোচনা থাকতেই পারে, তবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ অর্জন ইচ্ছাকৃতভাবে উপেক্ষা করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।
তিনি বলেন, “এই সরকার আসার পর বাংলাদেশ ভারতের আধিপত্য থেকে বেরিয়ে স্বাধীন কণ্ঠে কথা বলতে পারছে। ভারতের আগ্রাসী ভূমিকার বিরুদ্ধে এখন বাংলাদেশ নিজের অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরছে। ড. মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বে এটি আমাদের একটি বড় অর্জন।”
অর্থনৈতিক অগ্রগতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং প্রায় বিধ্বস্ত ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ও আস্থা ফিরে আসা—এসব কি সরকারের সাফল্য নয়?
তিনি আরও বলেন, “২০ হাজারেরও বেশি হয়রানিমূলক মামলা, যেখানে প্রায় পাঁচ লক্ষ বিরোধী দলীয় ও ভিন্নমতাবলম্বী মানুষ আসামি ছিলেন, সেসব মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে। এটিও কি কোনো অর্জন নয়?”
সাইবার বুলিং নিয়ে ক্ষোভ
সাইবার বুলিং প্রসঙ্গে আসিফ নজরুল বলেন, গত ১৬ মাসে সবচেয়ে বেশি সাইবার বুলিং হয়েছে তার বিরুদ্ধেই।
তিনি বলেন, “প্রথম চার মাসেই আমাকে নিয়ে চারটি ডেডিকেটেড ভিডিও বানানো হয়েছে। কখনো আমাকে পাকিস্তানের দালাল, আবার রাতারাতি ভারতের দালাল বানানো হয়েছে। বলা হয়েছে আমার আমেরিকায় বাড়ি আছে, পরিবার সেখানে চলে গেছে।”
তিনি প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “আজকের যুগে আমেরিকায় কারও বাড়ি থাকলে ঠিকানা বের করা অসম্ভব নয়। বাংলাদেশ বা বিশ্বের যেকোনো বাঙালি সাংবাদিক ও ইউটিউবার খুঁজে দেখুক—কেউ প্রমাণ দিতে পারেনি।”
তার মতে, একজন মানুষের সততা যার জীবনের সবচেয়ে বড় অহংকার, তার বিরুদ্ধে এ ধরনের অপপ্রচার চরম সাইবার বুলিংয়ের শামিল।
জামিন বিতর্ক ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য
হাইকোর্টের জামিন নিয়ে আসিফ নজরুল বলেন, “যতগুলো জামিন হয়েছে, তার সব দায় আমার ওপর চাপানো হয়েছে। সত্যিই যদি কেউ অন্যায় জামিন বন্ধ করতে চায়, তাহলে যাঁরা জামিন দেন এবং যাঁরা বিচার বিভাগ নিয়ন্ত্রণ করেন—তাদের প্রশ্ন করা উচিত।”
তিনি বলেন, অতীতেও বিচারকদের ভূমিকা নিয়ে কথা বলা হয়েছে, কিন্তু এখন অযথা আইনমন্ত্রী বা তাকে দোষারোপ করা হচ্ছে, যাদের সঙ্গে এসব বিষয়ে সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই।
তার মতে, এই আক্রমণের পেছনে দুটি কারণ রয়েছে—একটি ভিউ ও মনিটাইজেশনের ব্যবসা, অন্যটি একটি বিশেষ রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টা।
পদত্যাগ প্রসঙ্গে বক্তব্য
পদত্যাগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমাদের মধ্যে অন্তত তিন থেকে চারজন উপদেষ্টা বিভিন্ন সময় পদত্যাগ করতে চেয়েছেন। কিন্তু প্রতিনিয়ত গালাগালি, অশ্লীল ভাষা ও প্রাণনাশের হুমকির মধ্যেও প্রধান উপদেষ্টা আমাদের বলেছেন—এটা একটি টিম।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা কাজ করে যাচ্ছি। যখন আমাদের বলার সময় আসবে, তখন সব প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে। আমি বাংলাদেশেই থাকব, সব কিছুর জবাব দেব। আমার সততা ও আত্মবিশ্বাস আছে—একদিন সব সত্য সামনে আসবেই।”





