কুইক রেন্টাল প্রকল্পে লুটপাটের টাকা ফেরাতে উদ্যোগ শুরু

অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সমন্বিত কার্যক্রম, দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা চলমান

স্টাফ রিপোর্টার | ১৯ এপ্রিল ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিদ্যুৎ খাতের কুইক রেন্টাল প্রকল্পের নামে লুটপাট ও বিদেশে পাচার হওয়া টাকা দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।

আজ জাতীয় সংসদে তিনি জানান, এ লক্ষ্যে অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংক সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

পাবনা-৫ আসনের সরকারি দলের সংসদ সদস্য মো. শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের টেবিলে উত্থাপিত এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব তথ্য তুলে ধরেন।

মন্ত্রী জানান, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন, ২০১০’ জারি করা হয়েছিল। এই আইনের আওতায় কোনো ধরনের উন্মুক্ত দরপত্র বা স্বচ্ছ ক্রয় প্রক্রিয়া ছাড়াই বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাব অনুমোদনের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়।

তিনি আরও বলেন, আইনের ৫ ধারার অধীনে গঠিত নেগোসিয়েশন কমিটির মাধ্যমে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ট্যারিফ অনুমোদন করা হতো। এ প্রক্রিয়ায় প্রায়ই বিদ্যুতের অন্যায্য মূল্য নির্ধারণ এবং অস্বাভাবিক ক্যাপাসিটি চার্জ আরোপ করা হতো।

মন্ত্রী অভিযোগ করেন, এসব প্রকল্পের সঙ্গে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতৃবৃন্দ এবং তাদের আত্মীয়-স্বজন জড়িত ছিলেন। এর মাধ্যমে দেশের হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করে বিদেশে পাচার করা হয়েছে।

সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর বিতর্কিত বিশেষ বিধান আইনটি বাতিল করে একটি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে।

তিনি জানান, ওই অধ্যাদেশটি গত ৭ এপ্রিল জাতীয় সংসদে বিল আকারে পাস হয়েছে। এর ফলে আগের মতো স্বেচ্ছাচারী প্রক্রিয়ায় বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের সুযোগ চিরতরে বন্ধ হয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফেরত আনার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংক যৌথভাবে কাজ করছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।