বাগেরহাটে আসন সংকোচনের প্রস্তাবে ক্ষোভ: উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কা

বাগেরহাটে আসন সংকোচনের প্রস্তাবে ক্ষোভ: উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কা মো: মিজানুর রহমানবিশেষ প্রতিনিধি, নিউজ চ্যানেল বিডি.কম ১৯৭০ সালে বাগেরহাট জেলায়…


বাগেরহাটে আসন সংকোচনের প্রস্তাবে ক্ষোভ: উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কা

মো: মিজানুর রহমান
বিশেষ প্রতিনিধি, নিউজ চ্যানেল বিডি.কম

১৯৭০ সালে বাগেরহাট জেলায় মোট চারটি সংসদীয় আসন ঘোষণা করা হয়— ৯৫, ৯৬, ৯৭ ও ৯৮ নম্বর আসন। সে সময় যোগাযোগ ব্যবস্থা সীমিত ছিল। বর্তমানে কিছুটা উন্নতি হলেও, নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক প্রস্তাবে জেলার আসন সংখ্যা কমানোর উদ্যোগকে স্থানীয়রা “অবাস্তব ও উন্নয়নবিরোধী” আখ্যা দিয়েছেন।


জনসংখ্যাভিত্তিক সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনা

নির্বাচন কমিশন জনসংখ্যা ও ভোটার সংখ্যা বিবেচনা করে আসন সংখ্যা কমানোর পরিকল্পনা করেছে। কিন্তু জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এম এ সালাম মনে করেন, এটি অবাস্তব ও বিবেচনাহীন সিদ্ধান্ত।

তিনি বলেন—

“শুধু ভোটার সংখ্যার হিসাব করে আসন কমানো হলে বাগেরহাটের উন্নয়ন দীর্ঘমেয়াদে বাধাগ্রস্ত হবে। ভৌগোলিক অবস্থা, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও উন্নয়নের বাস্তবতা বিবেচনা করাই উচিত।”


বাগেরহাট-২ আসনের শঙ্কা

যদি বাগেরহাট-২ আসনে সদর, কচুয়া ও রামপাল একত্রিত হয়, তবে এটি হবে বিশাল এলাকা। এতে জনপ্রতিনিধিদের পক্ষে এত বড় ভৌগোলিক অঞ্চলের ভোটারদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা এবং উন্নয়ন কার্যক্রম সমন্বয় করা কঠিন হয়ে পড়বে।

যদিও জেলা শহর এই আসনে, তবুও অবকাঠামো উন্নয়ন ও আধুনিক সুবিধা নেই। সড়ক-ঘাট জরাজীর্ণ, যা যোগাযোগকে চরমভাবে ব্যাহত করে। রামপাল যুক্ত হলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, চিকিৎসা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন কার্যত স্থবির হয়ে যাবে।


মংলা ও রামপালের দুরবস্থা

মংলা বন্দর ও পৌরসভার মাঝখানে রয়েছে পশুর নদী। যোগাযোগের জন্য এখনো কেবল ইঞ্জিনচালিত ট্রলার ব্যবহৃত হয়। স্বাধীনতার পর থেকে এ অঞ্চলে সড়ক যোগাযোগের জন্য প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও এখনো কোনো সেতু নির্মাণ হয়নি।

যদিও এখানে কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র, সিমেন্ট ফ্যাক্টরি ও এলপিজি গ্যাস প্ল্যান্ট রয়েছে, তবুও কাঙ্ক্ষিত শিল্পায়ন হয়নি। এসব কারখানার ভারী যানবাহনের কারণে সড়ক সবসময় ভাঙাচোরা অবস্থায় থাকে।


মোরেলগঞ্জ ও শরণখোলার চিত্র

মোরেলগঞ্জ ও শরণখোলার সড়কগুলো ভাঙাচোরা ও দুর্গম। এলাকাটি বড় নদী— বলেশ্বর, পানগুচি প্রভৃতির কারণে বিচ্ছিন্ন এবং লবণাক্ততার জন্য কৃষি ক্ষতিগ্রস্ত।

এই দুটি থানার সঙ্গে যদি মংলা বন্দর যুক্ত হয়, তবে জনপ্রতিনিধিদের জন্য সরাসরি জনগণের কাছে পৌঁছানো প্রায় অসম্ভব হবে। তাছাড়া এ এলাকাগুলো উপকূলবর্তী হওয়ায় প্রায় প্রতি বছরই ঘূর্ণিঝড়সহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষতির মুখে পড়ে।


স্থানীয়দের আশঙ্কা

স্থানীয়রা মনে করেন, প্রস্তাবিত নতুন আসন বিন্যাস কার্যকর হলে দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকাগুলো আরও পিছিয়ে পড়বে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন ব্যাহত হবে।

তারা আরও বলেন—

“যদি আইলা বা সিডরের মতো বড় ধরনের ঘূর্ণিঝড় বা দুর্যোগ ঘটে, তখন একটি নির্বাচনী আসনে যে বরাদ্দ থাকে, তা দিয়ে পুরো উপকূলীয় এলাকার মানুষের যথাযথ সহযোগিতা দেওয়া সম্ভব হবে না। এটি হবে একটি চরম ভুল সিদ্ধান্ত। তাই সরকারকে এই প্রস্তাব থেকে সরে আসতে হবে।”


রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

এম এ সালাম নির্বাচন কমিশনের প্রস্তাব প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, সর্বদলীয় মিছিল-সমাবেশে প্রায় সব রাজনৈতিক দলই একই মতামত দিয়েছে। বিশেষ করে বিএনপিবাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছে।


উন্নয়নের জন্য ভৌগোলিক বিবেচনা জরুরি

এম এ সালাম বলেন—

“১৯৭০ সালে যে চারটি আসন নিয়ে বাগেরহাটের নির্বাচনী এলাকা গঠন হয়েছিল, তা ভেঙে ফেললে উন্নয়ন থমকে যাবে। দীর্ঘমেয়াদে বাগেরহাট আরও পিছিয়ে যাবে।”