স্টাফ রিপোর্টার | ১৭ জুন ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি
মৌলভীবাজার: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জনগণের অর্থ কোনোভাবেই বিদেশে পাচার হতে দেওয়া হবে না; বরং সেই অর্থ জনগণের কল্যাণ ও জীবনমান উন্নয়নে ব্যয় করা হবে।
বুধবার মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “অনেকেই বিভ্রান্তি ছড়ায় এবং প্রশ্ন তোলে ফ্যামিলি কার্ড কিংবা কৃষক কার্ডের অর্থ কোথা থেকে আসবে। আমি বলতে চাই, বিগত এক যুগে জনগণের বিপুল অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে। আমরা জনগণের অর্থ আর পাচার হতে দেব না।”
তিনি বলেন, জনগণের টাকায় জনগণের জন্য কাজ করা হবে এবং দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে সেই অর্থ ব্যয় করা হবে। যারা অর্থ পাচারের সঙ্গে জড়িত বা দেশের সম্পদ বিদেশে সরিয়ে নিতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ১০ জন নারীর হাতে সরাসরি কার্ড তুলে দেন এবং কম্পিউটারে বাটন চেপে ফ্যামিলি কার্ডের তৃতীয় পর্যায়ের কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। একই সঙ্গে চা শ্রমিকদের আবাসন সহায়তা হিসেবে দুই লাখ টাকা করে অনুদান, শ্রমিক সন্তানদের জন্য শিক্ষা বৃত্তি এবং প্রতিবন্ধীদের জন্য আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ করেন।
বিএনপিকে গণমানুষের দল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণই বিএনপির সবচেয়ে বড় শক্তি। দেশের মানুষ বারবার ভোট দিয়ে বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে।
বেগম খালেদা জিয়ার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, দেশের সংকটময় সময়ে অনেক নেতা বিদেশে চলে গেলেও খালেদা জিয়া দেশের জনগণকে ছেড়ে কোথাও যাননি। বাংলাদেশই ছিল তাঁর প্রথম ও শেষ ঠিকানা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরাও খালেদা জিয়ার সৈনিক। বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করাই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য। দেশের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে উৎপাদনশীল শক্তিতে রূপান্তরিত করতে পারলেই বাংলাদেশের উন্নয়ন নিশ্চিত হবে।”
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হয়েছিল সিলেট থেকে এবং সেখানেই তিনি চা বাগানের নারী শ্রমিকদের ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার অঙ্গীকার করেছিলেন। আজ সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে পেরে তিনি মহান আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তিনি জানান, আগামী এক বছরের মধ্যে চা বাগানের প্রায় সব নারী শ্রমিক এবং পর্যায়ক্রমে দেশের অধিকাংশ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা হবে।
নারীর ক্ষমতায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারীদের স্বাবলম্বী না করে দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। এ কারণেই নারীপ্রধান পরিবারগুলোর হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বক্তব্যের শেষে প্রধানমন্ত্রী সকলকে দেশের উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “করবো কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ; সবার জন্য বাংলাদেশ।”
অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী একটি জাম ও একটি কৃষ্ণচূড়া গাছের চারা রোপণ করেন।
সমাজকল্যাণ ও মহিলা-শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফয়জুল করিম নয়ন, মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান চৌধুরী, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কামাল উদ্দিন বিশ্বাস এবং ফ্যামিলি কার্ডের উপকারভোগী শিউলী রানি দাস ও ওয়াজেদা বেগম বক্তব্য দেন।
উল্লেখ্য, প্রায় দুই দশকের বেশি সময় পর শ্রীমঙ্গল সফর করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।





