চালের বাজার স্থিতিশীল, সরকারের হাতে পর্যাপ্ত মজুদ: বাণিজ্যমন্ত্রী

পাইকারি ও খুচরা বাজার পরিদর্শনে মূল্যবৃদ্ধির কোনো অস্বাভাবিকতা পাননি মন্ত্রী; খাদ্যশস্যের মজুদ প্রায় ২০ লাখ টন

স্টাফ রিপোর্টার | ১৭ জুন ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি

ঢাকা: রাজধানীর পাইকারি ও খুচরা চালের বাজার পরিদর্শন শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছেন, দেশে চালের দাম ও সরবরাহ পরিস্থিতি বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে এবং সরকারের হাতে চাল ও গমের সন্তোষজনক মজুদ রয়েছে।

বুধবার দুপুরে রাজধানীর বাদামতলী পাইকারি চালের বাজার ও নয়াবাজারের খুচরা বাজার পরিদর্শন শেষে সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান উপস্থিত ছিলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, একটি সংবাদপত্রে চালের বাজারে মূল্যবৃদ্ধির খবর প্রকাশিত হওয়ার পর পরিস্থিতির বাস্তব চিত্র জানতে তিনি ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী সরেজমিনে বাজার পরিদর্শন করেন। বিভিন্ন পাইকারি আড়ত ও খুচরা দোকান ঘুরে তারা চালের দামে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তনের প্রমাণ পাননি।

তিনি বলেন, ঈদের পর কিছু ধরনের চালের দাম কেজিতে এক থেকে দেড় টাকা বেড়েছে বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। তবে এটি বাজারে বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধির ইঙ্গিত নয়।

মন্ত্রী আরও বলেন, কিছু মিল মালিক বস্তাপ্রতি ১০০ টাকা দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নিলেও বাজারে তা কার্যকর হয়নি এবং পরে দাম কমে এসেছে।

চালের দামের স্বাভাবিক ওঠানামার বিষয়ে তিনি বলেন, বিভিন্ন মানের চালের ক্ষেত্রে দুই থেকে চার টাকার মূল্য পার্থক্য স্বাভাবিক। এছাড়া নতুন ও পুরোনো চালের মধ্যেও দাম ভিন্ন হতে পারে। নতুন চালের ফলন ভালো হলে তার দাম তুলনামূলক কম থাকে।

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার পরিস্থিতি নিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ভোজ্যতেলসহ অন্যান্য পণ্যের সরবরাহও স্বাভাবিক রয়েছে এবং বাজারে মূল্য স্থিতিশীল আছে। বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে প্রতিদিন বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

সরকারি খাদ্যশস্যের মজুদের বিষয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজনে বাজারে সরবরাহ বাড়াতে সরকার তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপ করতে সক্ষম। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এমন কোনো প্রয়োজন দেখা দেয়নি।

বাজেট-পরবর্তী মূল্য পরিস্থিতি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, খাদ্যপণ্যের বাজার গত কয়েক মাস এবং আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বর্তমানে অনেক বেশি স্থিতিশীল। সয়াবিন তেলের দাম লিটারপ্রতি চার টাকা বৃদ্ধির কারণও আগে স্বচ্ছভাবে জানানো হয়েছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, “বাজার পরিস্থিতি আমরা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। বর্তমানে চালের মূল্য ও সরবরাহ উভয় ক্ষেত্রেই সন্তোষজনক অবস্থা বিরাজ করছে। তবে প্রয়োজন হলে বাজারে হস্তক্ষেপের সক্ষমতা সরকারের রয়েছে।”

এদিকে খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী বলেন, দেশে চালের সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক ও সচল রয়েছে। সরকারের হাতে বর্তমানে প্রায় ২০ লাখ টন খাদ্যশস্যের মজুদ রয়েছে, যা নির্ধারিত আপৎকালীন মজুদের চেয়ে অনেক বেশি।

তিনি জানান, চলমান ধান-চাল সংগ্রহ কার্যক্রমের মাধ্যমে সরকারি মজুদ ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। ফলে চালের বাজার নিয়ে জনগণের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই।

খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বাজার পরিদর্শনে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী চালের সরবরাহ ব্যবস্থায় কোনো ঘাটতি বা সংকট নেই। বাজারে পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে এবং কোনো ধরনের অস্বাভাবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি।