স্টাফ রিপোর্টার | ১৭ জুন ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি
ঢাকা: পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন, সরকারের আসন্ন পাঁচ বছর মেয়াদি অর্থনৈতিক কৌশলপত্রে বিদেশি দাতা সংস্থা ও উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তায় বাস্তবায়নযোগ্য বেশ কয়েকটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
বুধবার সংসদে রংপুর-৪ আসনের এনসিপি দলীয় সদস্য আখতার হোসেন-এর টেবিলে উত্থাপিত লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, সরকারের ২০২৬ সালের নির্বাচনী ইশতেহারের অঙ্গীকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ‘স্ট্র্যাটেজিক রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফ্রেমওয়ার্ক (জুলাই ২০২৬-জুন ২০৩১)’ শীর্ষক একটি নতুন অর্থনৈতিক কৌশলপত্র প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, শিগগিরই প্রকাশিত হতে যাওয়া এই কৌশলপত্রে বিদেশি দাতা সংস্থা ও উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তায় কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য বেশ কয়েকটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
পরিকল্পনা মন্ত্রী জানান, আঞ্চলিক উন্নয়নে ভারসাম্য আনতে ‘গ্রোথ ক্লাস্টার নেটওয়ার্ক’ বাস্তবায়ন অন্যতম প্রধান উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। গ্রোথ ক্লাস্টার এমন একটি কৌশলগত অর্থনৈতিক কেন্দ্র, যেখানে শিল্পাঞ্চলগুলোকে ভৌগোলিক ও কার্যকরীভাবে সমন্বিত করে একটি সমন্বিত অর্থনৈতিক ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা হবে।
তিনি বলেন, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক-এর প্রস্তাবিত অর্থায়নে ‘ইন্টিগ্রেটেড গ্রোথ নেটওয়ার্ক ডেভেলপমেন্ট (আইজিএনডি)’ কাঠামোর আওতায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নয়টি সমন্বিত গ্রোথ ক্লাস্টার প্রতিষ্ঠা করা হবে।
মন্ত্রী জানান, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল থেকে ঢাকা হয়ে দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলীয় অঞ্চল পর্যন্ত একটি মাল্টিমোডাল পরিবহন করিডরের মাধ্যমে এসব ক্লাস্টার সংযুক্ত থাকবে। এ উদ্যোগের আওতায় সিলেট অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং একটি পর্যটন অঞ্চলও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই কর্মসূচি আঞ্চলিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা এবং দেশব্যাপী ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে।
শ্রমবাজার সংস্কার প্রসঙ্গে পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন, এ ক্ষেত্রে সরকার আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা এবং ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড ইউনিয়ন কনফেডারেশন-এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে।
তিনি বলেন, আইএলও’র সহায়তায় ট্রেড ইউনিয়নের অধিকার শক্তিশালী করা এবং শ্রমিক সংগঠনগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হবে, যা তৈরি পোশাক শিল্পসহ অন্যান্য খাতে কর্মসংস্থানের মানোন্নয়নে সহায়ক হবে।
মন্ত্রী আরও জানান, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ-এর মাধ্যমে উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থায়ন সরকারের ‘স্ট্রাকচারাল ট্রান্সফরমেশন স্ট্র্যাটেজি (এসটিএস)’-এর অগ্রাধিকারগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হবে।
ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সহায়তার বিষয়ে তিনি বলেন, উন্নয়ন সহযোগীদের তহবিল সংগ্রহ এবং ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প (এমএসএমই) খাতের পুনঃঅর্থায়ন কর্মসূচি আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি জানান, কুটির ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য পৃথক অর্থায়ন নীতি প্রণয়ন করা হবে। পাশাপাশি নারী ও প্রান্তিক উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ ঋণসুবিধা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
পরিকল্পনা মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, এসব সমন্বিত উদ্যোগ বাংলাদেশের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।





