স্টাফ রিপোর্টার | ১৭ জুন ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি
নেপালের সংসদের স্পিকার দোল প্রসাদ আর্যাল বাংলাদেশের সঙ্গে সংসদীয় বিনিময় আরও সম্প্রসারণে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে সংসদীয় স্থায়ী কমিটি ও পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপগুলোর মধ্যে যোগাযোগ বাড়িয়ে গণতান্ত্রিক চর্চা ও দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।
বুধবার কাঠমান্ডুতে নেপালে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. শফিকুর রহমান তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলে এ আগ্রহের কথা জানান বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
বৈঠকে স্পিকার আর্যাল বাংলাদেশ-নেপাল সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে নেপালের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন এবং আইন প্রণয়ন-সংক্রান্ত দায়িত্বের আওতায় দুই দেশের সহযোগিতা আরও সুসংহত করতে সর্বাত্মক সহায়তার আশ্বাস দেন।
তিনি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও অবকাঠামো উন্নয়নের প্রশংসা করে বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন অভিজ্ঞতা নেপালের জন্য মূল্যবান শিক্ষা হতে পারে।
দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক আরও জোরদারে খেলাধুলা, পর্যটন, সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ বৃদ্ধির গুরুত্বও তুলে ধরেন তিনি।
অভিন্ন পরিবেশগত ঝুঁকির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে নেপালের স্পিকার বলেন, হিমালয় অঞ্চল ও উপকূলীয় এলাকায় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও বাড়ানো প্রয়োজন।
নেপালি শিক্ষার্থীদের জন্য চিকিৎসা ও কারিগরি শিক্ষায় বৃত্তি এবং শিক্ষার সুযোগ অব্যাহত রাখায় বাংলাদেশের প্রশংসাও করেন তিনি।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রদূত শফিকুর রহমান স্পিকার আর্যালকে নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানান এবং বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকারের শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন।
তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে ড. খলিলুর রহমান-এর নির্বাচনে বাংলাদেশের প্রতি নেপালের সমর্থনের জন্য দেশটিকে ধন্যবাদ জানান।
বাংলাদেশ ও নেপাল-এর দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা স্মরণ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, অভিন্ন মূল্যবোধ এবং জনগণের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের ভিত্তির ওপর দুই দেশের সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও নেপাল ঘনিষ্ঠ ও বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী হলেও সহযোগিতার বিপুল সম্ভাবনা এখনো পুরোপুরি কাজে লাগানো হয়নি। অভিন্ন উন্নয়ন ও আর্থসামাজিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অধিকতর সহযোগিতা, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে।
রাষ্ট্রদূত জ্বালানি, বাণিজ্য, পর্যটন, শিক্ষা, কৃষি, খাদ্যনিরাপত্তা, নারী ক্ষমতায়ন, যুব উন্নয়ন এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণে বাংলাদেশের প্রস্তুতির কথা তুলে ধরেন।
তিনি আরও বলেন, সার্ক এবং বিমসটেক-এর মতো আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ফোরামে সহযোগিতা জোরদার করার পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে বাণিজ্য, সংযোগ ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।





