প্রার্থীর মিথ্যা তথ্য প্রমাণিত হলে ভোটের পরও বাতিল হবে সংসদ সদস্য পদ
নির্বাচন কমিশন (ইসি) গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) ১৯৭২ সংশোধনের মাধ্যমে এমন বিধান যুক্ত করতে যাচ্ছে, যাতে কোনো প্রার্থী হলফনামায় মিথ্যা তথ্য দিলে ভোটের পরেও তার প্রার্থিতা বাতিল করা যাবে এবং সংসদ সদস্য পদ হারাতে হবে।
বর্তমান আইনে হলফনামায় মিথ্যা তথ্য দেওয়ার কারণে ভোটের আগে প্রার্থিতা বাতিলের সুযোগ থাকলেও, নির্বাচন হয়ে যাওয়ার পর বা গেজেট প্রকাশের পর ইসির সেই ক্ষমতা ছিল না। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, গেজেট প্রকাশের পরও তদন্ত সাপেক্ষে মিথ্যা তথ্য প্রমাণিত হলে প্রার্থীর এমপি পদ বাতিল করতে পারবে ইসি।
সংশোধনী প্রস্তাবে আরও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন রয়েছে—
‘না’ ভোট ও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাতিল: কোনো আসনে একজন প্রার্থী থাকলেও সরাসরি বিজয়ী ঘোষণা করা হবে না। ভোটে জনগণের সমর্থন পেতে হবে। যদি ‘না ভোট’ বেশি হয়, তবে পুনঃনির্বাচন হবে।
নির্বাচন বাতিলের ক্ষমতা বৃদ্ধি: কোনো কেন্দ্রে বা নির্বাচনী এলাকায় অনিয়ম হলে ভোটের ফলাফল গেজেট প্রকাশের পরও বাতিল করে পুনঃনির্বাচনের নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা পাবে কমিশন।
পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার: অনুমতিপ্রাপ্ত পর্যবেক্ষক ও সংবাদকর্মীরা ভোটকেন্দ্রে এবং ভোট গণনার সময় উপস্থিত থাকতে পারবেন।
নতুন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন: নতুন দলের নিবন্ধনের ক্ষেত্রে গঠনতন্ত্র সংশোধনের জন্য কমিশন ৩০ দিনের সময়সীমা রাখছে। নিবন্ধন আবেদন নাকচ হলে ইসি স্পষ্ট কারণ উল্লেখ করে চিঠি দেবে, যা আদালতে উপস্থাপনযোগ্য হবে।
ইসি আশা করছে, প্রস্তাবিত এই সংশোধনীগুলো আইনে পরিণত হলে দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আরও বৃদ্ধি পাবে।





