জাতীয় নির্বাচন হবে অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য: শফিকুল আলম

সংস্কার ও গণভোটের অংশ হিসেবে নির্বাচন, ভোটার উপস্থিতি হবে উল্লেখযোগ্য প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন…

Posted by:

on

সংস্কার ও গণভোটের অংশ হিসেবে নির্বাচন, ভোটার উপস্থিতি হবে উল্লেখযোগ্য

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য হবে বলে অন্তর্বর্তী সরকার আশাবাদী। তিনি বলেন, সরকার বাংলাদেশকে একটি ভালো নির্বাচন উপহার দিতে পারবে, যা দেশের অন্যতম সেরা নির্বাচন হিসেবে বিবেচিত হবে।

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর **ফরেন সার্ভিস একাডেমি**তে এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রেস সচিব বলেন, এই নির্বাচন কেবল একটি সংসদ নির্বাচন নয়; বরং এক অর্থে এটি গণভোটের অংশ। এখানে সংস্কার বিষয়ে জনগণের মতামত প্রতিফলিত হবে। এ কারণে ভোটার উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য হবে বলে সরকার আশা করছে।

নির্বাচনকে ঘিরে নিরাপত্তা প্রস্তুতির বিষয়ে শফিকুল আলম বলেন, সরকার এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। নিয়মিত বৈঠকের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সার্বিক প্রস্তুতি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তিনি জানান, গত ২৯ ডিসেম্বর মনোনয়ন দাখিলের শেষ দিন পর্যন্ত দেশের কোথাও কোনো বিশৃঙ্খলা, সংঘর্ষ বা সহিংসতার ঘটনা ঘটেনি।

তিনি আরও জানান, প্রতিটি নির্বাচনী আসনে গড়ে আটজনের বেশি প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করেছেন। এটি একটি প্রতিযোগিতামূলক ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের ইতিবাচক দিক নির্দেশ করে।

ভোটারদের সচেতনতা প্রসঙ্গে প্রেস সচিব বলেন, বাংলাদেশের ভোটাররা গণভোট ও নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পর্কে যথেষ্ট সচেতন। অপ্রাপ্তবয়স্ক বাদে দেশের প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ কোনো না কোনোভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করেন। এসব মাধ্যম থেকে তারা ভোট ও সংস্কারসংক্রান্ত নানা তথ্য জানতে পারছেন।

তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের সাক্ষরতার হার প্রায় ৮০ শতাংশে পৌঁছেছে, যা ১৯৭৭ সালের প্রথম গণভোটের সময় ছিল মাত্র ২৭ শতাংশ। ফলে আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় ভোটারদের সচেতনতা অনেক বেশি বলে মনে করছে সরকার।

শফিকুল আলম জানান, ভোট হতে এখনো ৪১ দিন বাকি রয়েছে। এই সময়ে ভোটারদের আরও সচেতন করতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে। ‘ভোটের গাড়ি’ দেশের ৬৪ জেলা ও ৩০০ উপজেলায় ঘুরে ভোটারদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াবে। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রশংসনীয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ভোটার উপস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, নির্দিষ্ট করে কোনো শতাংশ বলা সম্ভব না হলেও সরকার একটি সন্তোষজনক ভোটার উপস্থিতি প্রত্যাশা করছে।

ব্রিফিংয়ে প্রেস সচিব আরও জানান, বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থা চালু হয়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় সাত লাখ প্রবাসী বাংলাদেশি পোস্টাল ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছেন। এই উদ্যোগ আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।

তিনি বলেন, নেপালসহ কয়েকটি দেশ বাংলাদেশের পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। সরকারের লক্ষ্য হলো—এই ব্যবস্থার মাধ্যমে একটি আন্তর্জাতিক মানদণ্ড তৈরি করা, যাতে ভবিষ্যতে অন্যান্য দেশও তা অনুসরণ করতে পারে।