স্টাফ রিপোর্টার, ৬ জানুয়ারি ২০২৬, নিউজ চ্যানেল বিডি।
ঢাকা : আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও জনগণের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হবে কি না—এ নিয়ে বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে গভীর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন । তিনি বলেন, বিগত তিনটি নির্বাচনে প্রশাসনের পক্ষপাতিত্ব, একতরফা আচরণ, রাতের ভোট ও ব্যালট পূরণের যে অভিযোগ রয়েছে, সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এই শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
গণমাধ্যমকর্মীদের দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) আমরা আহ্বান জানিয়েছি—যেন তারা যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করে। বিশেষ করে যেসব বিষয় আপিলের মাধ্যমে সরাসরি নির্বাচন কমিশনের অধীনে শুনানির জন্য আসবে, সেখানে যেন কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব না থাকে।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আপিল প্রক্রিয়ায় যদি কোনো পক্ষপাতিত্ব, প্রেফারেন্স বা বড় দলের প্রতি দুর্বলতা দেখা যায়, তাহলে নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের সক্ষমতা গুরুতরভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হবে। এতে জনগণের মধ্যে যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, তা আরও ঘনীভূত হবে।
নিজ জন্মস্থানের উদাহরণ টেনে আসিফ মোহাম্মদ সজীব ভুঁইয়া বলেন, সেখানে বিএনপির একজন প্রার্থী হলফনামায় প্রায় ১৯০ কোটি টাকার ঋণ খেলাপির তথ্য উল্লেখ করেননি। একই সঙ্গে তিনি তুরস্কের নাগরিক—এমন তথ্য ও আইডি কার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘুরে বেড়ালেও এসব স্পষ্ট আচরণবিধি লঙ্ঘনের পরও তার প্রার্থিতা বৈধ বলে বিবেচিত হয়েছে। এই বিষয়গুলো নিয়েই সামনে আপিল হবে বলে তিনি জানান।
তিনি আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডা হচ্ছে গণতান্ত্রিক রূপান্তর। এই লক্ষ্যে বহু মানুষ জীবন দিয়েছেন, আহত হয়েছেন, অনেকেই এখনো গুলিবিদ্ধ হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করে মানবেতর জীবনযাপন করছেন—শুধু একটি সুন্দর, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের স্বপ্নে।
আসিফ মোহাম্মদ সজীব ভুঁইয়া বলেন, ১৭ বছর ধরে জনগণ প্রকৃত অর্থে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি। এবার যদি প্রশাসন, সরকার বা কোনো রাজনৈতিক দল পুরনো কোনো সেটেলমেন্ট বা আন্ডারস্ট্যান্ডিংয়ের মাধ্যমে আবারও জনগণকে প্রতারিত করার চেষ্টা করে, তাহলে আমরা নির্বাচনের দিন পর্যন্ত চুপ করে বসে থাকবো না।
তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, প্রয়োজনে আমরা আবার রাজপথে নামবো। সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন এবং জনগণের রায় দেওয়ার অধিকার আমরা ছিনিয়ে নেব—এটাই আমাদের অঙ্গীকার।





