স্টাফ রিপোর্টার |১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, নিউজ চ্যানেল বিডি
ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন (ইইউ ইওএম) বাংলাদেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য এবং সুপরিচালিত বলে অভিহিত করেছে। সংস্থাটি এই নির্বাচনকে গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা এবং আইনের শাসন পুনরুদ্ধারের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য (এমইপি) ও ইইউ মিশনের প্রধান পর্যবেক্ষক ইভার্স ইজাবস শনিবার রাজধানীতে এক সংবাদ সম্মেলনে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের প্রাথমিক প্রতিবেদন পেশ করেন। টমাস জ্যাচোভস্কির নেতৃত্বে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রতিনিধি দল প্রতিবেদনটির সঙ্গে একমত পোষণ করেছে।
ইজাবস বলেন, “২০২৬ সালের সংসদ নির্বাচন গ্রহণযোগ্য ও দক্ষভাবে পরিচালিত হয়েছে। এটি গণতান্ত্রিক সুশাসন এবং আইনের শাসন ফিরিয়ে আনার পথে একটি বড় পদক্ষেপ। নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ছিল এবং মানুষের মৌলিক স্বাধীনতা রক্ষা পেয়েছে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, নির্বাচনী আইনি কাঠামো আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন স্বাধীন ও স্বচ্ছভাবে কাজ করেছে, যা অংশগ্রহণকারীদের আস্থা অর্জন করেছে এবং নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করেছে।
ইইউ পর্যবেক্ষকরা ভোটারদের সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করার ক্ষেত্রে নাগরিক পর্যবেক্ষক, ফ্যাক্ট-চেকার, তরুণ ও নারী কর্মীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথাও তুলে ধরেছেন। নির্বাচনের দিনটি ছিল সুশৃঙ্খল, উৎসবমুখর এবং শান্তিপূর্ণ। নির্বাচনী কর্মীরা দক্ষতার সঙ্গে ভোটকেন্দ্র খোলা, ভোটগ্রহণ ও গণনা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন।
প্রতিটি কেন্দ্রে রাজনৈতিক দলগুলোর এজেন্টদের উপস্থিতি নির্বাচনের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করেছে। পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের ফলাফল হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ এবং মিডিয়ায় নিয়মিত প্রচারও জনমনে আস্থা ধরে রাখতে সাহায্য করেছে। তবে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের স্বাধীন অংশগ্রহণ সব ক্ষেত্রে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
ইজাবস জোর দেন, নারীদের সীমিত রাজনৈতিক সুযোগ তাদের সমান অংশগ্রহণকে বাধাগ্রস্ত করেছে। এছাড়া বিক্ষিপ্ত স্থানীয় রাজনৈতিক সহিংসতা ও অপতথ্য থেকে সৃষ্ট আতঙ্ক গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে আদিবাসী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ও রাজনৈতিক অঙ্গনে এখনও অবহেলিত থেকে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, “পুরানো ধ্যান-ধারণা ও চর্চাগুলো বাদ দেওয়ার এখনই সময়, যা বাংলাদেশের গণতন্ত্রের বর্তমান অগ্রগতির সঙ্গে যায় না। এখন সময় এসেছে স্বাধীন প্রতিষ্ঠান, মানবাধিকার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে নতুন পথে এগোবার।”
ইউরোপীয় পার্লামেন্ট প্রতিনিধি দলের প্রধান টমাস জ্যাচোভস্কি বলেন, “দেশ এখন এক নতুন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে প্রবেশ করছে। আমরা নতুন সংসদ ও সরকারকে আহ্বান জানাই, যেন তারা রাষ্ট্রের সকল প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় অনুমোদিত সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন করে।”
ইইউ মিশন ২০২৫ সালের শেষ দিক থেকেই বাংলাদেশে অবস্থান করছে। নির্বাচনের দিন মিশনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশ ছাড়াও কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ডের ২২৩ জন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক দেশের ৬৪টি জেলায় দায়িত্ব পালন করেছেন। এই মিশন নির্বাচনের পরবর্তী পরিবেশও পর্যবেক্ষণ করবে এবং আগামী মাসগুলোতে একটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করবে।





