ইনসাফ মানে যার যা ন্যায্য, তা তার হাতে তুলে দেওয়া: ডা. শফিকুর রহমান

নারীর সম্মান রক্ষা, যুবকদের কর্মসংস্থান ও ন্যায্য বণ্টনের অঙ্গীকার

স্টাফ রিপোর্টার, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আল্লাহ তাআলা যদি তাদের দেশের পরিচালনার দায়িত্ব দেন, তাহলে সবাইকে সমান করে দেওয়ার নামে কোনো অবিচার করা হবে না; বরং যার যে ন্যায্য পাওনা, তা তার হাতে তুলে দেওয়া হবে। তার ভাষায়, সবাইকে এক রকম করে দেওয়ার নাম ইনসাফ নয়, প্রকৃত ইনসাফ হলো প্রাপ্য অনুযায়ী বণ্টন নিশ্চিত করা।

তিনি বলেন, আল্লাহ নিজ সৃষ্টিতেই বৈচিত্র্য রেখেছেন। তবে রিজিক ও বরকত সবার জন্য উন্মুক্ত করেছেন, এমনকি যারা তাঁকে মানে না, তাদেরও বঞ্চিত করেন না। একদিন সবাইকে আল্লাহর কাছেই ফিরে যেতে হবে এবং কে কতটুকু কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে তার হিসাব দিতে হবে।

নির্বাচনী প্রচারণায় নারীদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্যের নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো নারীর সম্মানহানি করার আহ্বান চরম নিন্দনীয়। একজন মানুষ নিজের মায়ের সম্মান করতে না পারলে সমাজে শান্তি আসতে পারে না। কোথাও কোথাও হিজাব ও নেকাব টানাহেঁচড়া এবং নারীদের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। এসবের বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে প্রতিবাদ গড়ে ওঠায় পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে নারীর সম্মান রক্ষায় আপসহীন। এ বিষয়ে তার অবস্থান পরিষ্কার। মিথ্যা অভিযোগ ছড়িয়ে কাউকে হেয় করার চেষ্টা না করে, সত্য অভিযোগ থাকলে তা প্রকাশ্যে আনার আহ্বান জানান তিনি। ভুল হলে সংশোধনের প্রতিশ্রুতিও দেন।

যুবসমাজের উদ্দেশে তিনি বলেন, তারা বেকার ভাতা দিয়ে তরুণদের ছোট করতে চান না। যুবকরা ভাতা নয়, কাজ চায়। তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে বলে অঙ্গীকার করেন তিনি। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এমন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন, যেখানে প্রতিটি নাগরিক গর্বের সঙ্গে নিজের পরিচয় দিতে পারবে।

মা-বোনদের কাছে দোয়া কামনা করে তিনি বলেন, মায়ের দোয়া অত্যন্ত বরকতময়। ইসলামে মাকে বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। মায়ের অবদানের প্রতিদান কখনো পূর্ণভাবে দেওয়া সম্ভব নয়, অন্তত সম্মান দেওয়ার তাওফিক যেন আল্লাহ দেন, সেই প্রার্থনা করেন তিনি।