ইলিয়াস আলীকে নিয়ে আবেগঘন স্মৃতিচারণ, ফেসবুকে আসিফ আকবরের পোস্ট

ছাত্রনেতা থেকে জাতীয় নেতা, ইলিয়াস আলীর অন্তর্ধান নিয়ে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি

স্টাফ রিপোর্টার, ৩ এপ্রিল ২০২৬, নিউজ চ্যানেল বিডি।

বাংলাদেশের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আসিফ আকবর নিখোঁজ বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীকে নিয়ে স্মৃতিচারণমূলক একটি আবেগঘন পোস্ট করেছেন। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া ওই পোস্টে তিনি ইলিয়াস আলীর রাজনৈতিক জীবন, ব্যক্তিত্ব এবং তার অন্তর্ধান নিয়ে গভীর বেদনা প্রকাশ করেন।

ফেসবুক পোস্টে আসিফ আকবর লিখেছেন, ছাত্রনেতা থেকে জাতীয় নেতা হয়ে ওঠা ইলিয়াস আলী ছিলেন দলের প্রতি নিবেদিত একজন কর্মী। তিনি দাবি করেন, ইলিয়াস আলীর গুম হওয়া এবং নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর তার লাশ ধলেশ্বরী নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে বিভিন্ন সময়ে আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ঘিরে বিভিন্ন তথ্য ধীরে ধীরে সামনে আসছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

২০১২ সালের একটি ঘটনার স্মৃতিচারণ করে আসিফ আকবর বলেন, তৎকালীন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশে তিনি হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ-বাহুবল উপনির্বাচনে শেখ সুজাত মিয়ার পক্ষে প্রচারণায় অংশ নিতে যান। সেখানে ইলিয়াস আলী নির্বাচন সমন্বয়কারীর দায়িত্বে ছিলেন এবং কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে তিনি নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেন।

তিনি জানান, স্থানীয় বাজার, পথসভা ও উঠান বৈঠকে অংশ নিয়ে নির্বাচনী কাজ করেন তিনি। সেই সময় বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, বাবু গৌতম চক্রবর্তী ও বাবু নিতাই রায় চৌধুরীসহ আরও নেতারা নির্বাচনী কাজে যুক্ত ছিলেন।

আসিফ আকবর আরও বলেন, প্রচারণা শেষে ফেরার সময় শেখ সুজাত মিয়া তাকে আরও একদিন থাকার অনুরোধ জানান। পরে ইলিয়াস আলী তৎকালীন প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান সোহেলের সঙ্গে যোগাযোগ করলে খালেদা জিয়ার নির্দেশে তাকে অন্য এলাকায় নির্বাচনী কাজে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় ইলিয়াস আলীর দলের প্রতি আনুগত্য ও দায়িত্ববোধের কথা উল্লেখ করেন তিনি।

পোস্টের শেষে আসিফ আকবর বলেন, ইলিয়াস আলীর অন্তর্ধানের খবর তাকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছিল। তিনি মরহুম ইলিয়াস আলীর আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।

উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য এম ইলিয়াস আলী ঢাকার বনানী এলাকা থেকে নিখোঁজ হন। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তার সন্ধান মেলেনি, যা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এখনো আলোচিত একটি ঘটনা হিসেবে রয়েছে।