স্টাফ রিপোর্টার | ৭ জানুয়ারি ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি
গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নূর, সাধারণ সম্পাদক ভারপ্রাপ্ত হাসান আল মামুন এবং উচ্চতর পরিষদের সদস্য এডভোকেট খালিদ সম্প্রতি এক বৈঠকে দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আসন্ন নির্বাচনী প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় করেছেন।
নুরুল হক নূর বলেন, “আপনারা জানেন যে, বিএনপির সঙ্গে যারা যুগপথ আন্দোলন করেছে, আমরা তারা একত্রে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান ঘোষণা করেছেন যে, আন্দোলন, নির্বাচন ও জাতীয় সরকারে আমরা একসাথে থাকব। নির্বাচনে মিত্র দল হিসেবে গণঅধিকার অংশগ্রহণ করছে। আমরা লক্ষ্য করেছি যে, কিছু মিত্র সংগঠন যারা যুগপথ আন্দোলনের সময় একসাথে সংগ্রাম করেছে, তাদের জন্য বিএনপি আসন ছেড়ে দিয়েছে বা ওই আসনগুলোতে বিএনপি প্রার্থী দেয়নি। তবে কিছু আসনে, বিশেষ করে বেশিরভাগ আসনে, বিএনপির স্থানীয় স্বতন্ত্র প্রার্থী দাঁড়িয়েছে, যা আমাদের জন্য বিব্রতকর এবং নির্বাচনের মাঠে চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।”

তিনি উল্লেখ করেন, “আমরা এই বিষয়টি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানকে জানিয়েছি এবং আমাদের অভিব্যক্তি ছিল, বহিষ্কার না করে আলোচনার মাধ্যমে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রত্যাহার করানো সম্ভব হলে তা ভালো হবে। কারণ যারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন, তারা হয়তো দলের প্রতি ডেডিকেশন বা মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। তাদের আবেগকে আমরা সম্মান করি, কিন্তু আমাদের দিকও দেখতে হবে। আমাদের একটি প্রতিকূল সময়ে রাজনীতি করার অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং দেশের বৃহত্তর স্বার্থে আমাদের অবস্থান রয়েছে। তবে কিছু আসনে যদি আবার বিএনপির প্রার্থী থাকে, তা দলের জন্য ইমেজ সংকটের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।”
নুরুল হক নূর আরও বলেন, “চেয়ারম্যান আমাদের আশ্বস্ত করেছেন যে, বিশেষ করে মিত্র সংগঠনগুলোর যেসব আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছে, তাদের ডেকে আলোচনার মাধ্যমে দলের সঙ্গে কাজ করানোর নির্দেশনা দেবেন। নির্বাচনের মাঠে চ্যালেঞ্জ ও নির্বাচন পরবর্তী রাজনীতি বিবেচনা করে, যুগপথ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা ঐক্যকে সুসংহত করার চেষ্টা করা হবে। দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণীর কথা শুনে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
তিনি উল্লেখ করেন, “বর্তমান বাংলাদেশের বাস্তবতায় বিএনপি ব্যতীত অন্য কোনো দল রাষ্ট্রক্ষমতা গ্রহণ করলে দেশ পরিচালনা করতে পারবে না। তাই আমরা জাতীয় স্বার্থে বিএনপির সঙ্গে আছি। যতদিন বিএনপি আমাদের মিত্র রাজনৈতিক দলসমূহ ও দেশের মানুষের কথা বিবেচনা করে রাজনীতি করবে, আমরা তাদের মূল্যায়ন করে সহযোগিতা অব্যাহত রাখব। গত পাঁচ দশকে দেখা গেছে, দুর্নীতি ও দুঃশাসনের কারণে দেশের অনেক সুযোগ কাজে লাগেনি। তাই বর্তমান সময়ে বিএনপিকে সমর্থন করা অপরিহার্য।”
নুরুল হক নূর বলেন, “জনাব তারেক রহমানের জন্য এটি একটি ঐতিহাসিক সময় ও সুযোগ। তার বাবা ও মা বাংলাদেশের উত্তাল সময়ে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, দেশকে ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করেছিলেন। ঠিক একইভাবে তিনি দেশের নেতৃত্ব দিয়ে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে, স্বাধীন ও স্বতন্ত্র পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করতে এবং গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি শক্তিশালী করতে পারেন। তিনি ইংল্যান্ডের মতো দেশে থেকেছেন, সেই দেশের গণতন্ত্র ও উন্নয়ন দেখেছেন।”
তিনি আশা প্রকাশ করেন, “আজকের আলাপ-আলোচনায় কোন আন্তরিকতার ঘাটতি নেই। তার প্রচেষ্টারও কোনো ঘাটতি নেই। নির্বাচনের হেভি শিডিউলে তিনি মিটিং পরিচালনা করছেন এবং দল কত সিরিয়াস তা স্পষ্ট। চেয়ারম্যান ও মহাসচিব আশ্বস্ত করেছেন যে, মিত্রদের জেতানোর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আমরা আশাবাদী যে, বহিষ্কার না করে, যাদেরকে করা হয়েছে তাদেরকে ডেকে কথা বললে তা পার্টির জন্য এবং মিত্র সংগঠনের জন্য ভালো হবে।”
নুরুল হক নূর যোগ করেন, “বড় দল কিংবা ছোট দল যেভাবে মনোনয়ন হ্যান্ডেল করে, আমরা দেখেছি একাধিক আসনে দু-তিনজন আগ্রহী থাকতে পারেন। ১৭ বছর নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করা কারও বহিষ্কার করলে তারা আরও হতাশ হবে বা দলের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। তাই আমাদের পরামর্শ, বহিষ্কার না করে আলোচনার মাধ্যমে বিষয় সমাধান করা উচিত এবং স্থানীয় পর্যায়ে যারা আছেন তাদেরকে নিয়েই কাজ করা হবে।”





