গাজীপুরে সাংবাদিক তুহিন হত্যা: ভিডিও ধারণই কি কাল হলো?
প্রকাশকাল: ৮ আগস্ট, ২০২৫
ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ:
৭ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) রাত ৮টার দিকে গাজীপুর মহানগরের চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় বর্বরোচিতভাবে খুন হন সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিন (৩৮)। তিনি জাতীয় দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ পত্রিকার গাজীপুর প্রতিনিধি ছিলেন। ঘটনার পরদিন পুলিশ অভিযান চালিয়ে ৫ জনকে আটক করে, যাদের পরিচয় এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
ভিডিওই ছিল মৃত্যুর কারণ?
পুলিশ সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শী ভিডিও বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এক যুবক এক তরুণীকে মারধর করছিলেন। এ দৃশ্য ক্যামেরায় ধারণ করছিলেন তুহিন। ঠিক তখনই ৬-৭ জন যুবক হাতে রামদা, চাপাতি ও ছুরি নিয়ে ওই যুবককে আক্রমণ করতে এগিয়ে আসে। ধারণা করা হচ্ছে, তুহিন সেই মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করায় অপরাধীরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে হত্যা করে।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, হামলাকারীরা তুহিনকে ধাওয়া করে একটি দোকানের সামনে ধরে ফেলে এবং প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করে।
👮 পুলিশের অবস্থান:
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (ক্রাইম-উত্তর) রবিউল হাসান জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়েছে এবং পুলিশের একাধিক টিম অভিযান চালিয়ে ৫ জনকে আটক করেছে।
ওসি মো. শাহীন খান বলেন, “সাংবাদিক তুহিনের ভিডিও করার কারণেই তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি।”
সাংবাদিকদের নিরাপত্তা প্রশ্নে উদ্বেগ:
এই ঘটনার মাধ্যমে আবারও সামনে চলে এসেছে মাঠপর্যায়ে কাজ করা সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ইস্যু। সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যদি জীবন দিতে হয়, তবে সেটি পুরো সমাজ ব্যবস্থার জন্য হুমকিস্বরূপ। এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড স্বাধীন সাংবাদিকতা ও গণতন্ত্রের জন্য ভয়াবহ বার্তা বহন করে।





