জগন্নাথ ছাত্রদল নেতা খুন, প্রধান সন্দেহভাজন মাহিরকে থানায় দিলেন তাঁর মা

ছবিতে, খুনি মাহির এবং কার প্রমিকা বর্ষা ডানপাশে খুন হও জোবায়েদ

Posted by:

on

স্টাফ রিপোর্টার
ঢাকা, ২০ অক্টোবর ২০২৫ (নিউজ চ্যানেল বিডি):

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. জুবায়েদ হোসাইন হত্যাকাণ্ডে তিনজনের সংশ্লিষ্টতা নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
এর মধ্যে মূল অভিযুক্ত মাহির রহমানকে তার মা পুলিশের হাতে তুলে দেন। বাকি দুই সহযোগীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।


🔹 ঘটনার পটভূমি

রাজধানীর আরমানিটোলার ১৫ নম্বর নূর বক্স রোডের রওশন ভিলায় টিউশনি করতে গিয়েছিলেন জুবায়েদ।
সেখানে ওৎ পেতে ছিলেন ছাত্রীর প্রাক্তন প্রেমিক মাহির রহমান। ছুরি হাতে সিঁড়ির কাছে লুকিয়ে থাকা মাহির, বিকেল সাড়ে চারটার দিকে জুবায়েদ বাসায় প্রবেশ করতেই তার গলায় ছুরিকাঘাত করেন।
পরে আহত অবস্থায় জুবায়েদ সিঁড়ি বেয়ে তৃতীয় তলায় উঠতে গিয়ে লুটিয়ে পড়েন। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।


🔹 হত্যার পরিকল্পনা ও পালানোর কৌশল

তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, মাহির রহমান ঘটনাটির আগে থেকেই পরিকল্পনা করে রেখেছিলেন।
বাড়ির নিরাপত্তাহীন পরিবেশ এবং জুবায়েদের আগমনের সময় জেনে নিয়ে এই বাড়িটিকেই হামলার নিরাপদ জায়গা হিসেবে বেছে নেন তিনি।
অপর দুই সহযোগীকে বাড়ির বাইরে পাহারায় রাখেন মাহির।
ঘটনার পর তিনজনই পালিয়ে যান।
সিসিটিভি ফুটেজে কালো টি-শার্ট ও ব্যাগপিঠে দুই যুবককে দৌড়ে পালাতে দেখা যায়। পুলিশের ধারণা, তারাই মাহিরের সহযোগী।


🔹 গ্রেপ্তার অভিযান ও আত্মসমর্পণ

রোববার রাতেই তদন্ত কর্মকর্তারা ধারণা পান, ঘটনাটিতে ছাত্রীর প্রাক্তন প্রেমিক মাহির জড়িত।
এ কারণে ছাত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয় বংশাল থানা পুলিশ।
এদিকে, ঘটনার পর আত্মগোপনে চলে যান মাহির।
সোমবার সকালে কেরানীগঞ্জের পানগাঁও এলাকায় মাহিরের ফুফু-ফুফাকে জিজ্ঞাসাবাদের পর, তাদের মধ্যস্থতায় মাহিরের মা নিজেই ছেলেকে পুলিশের হাতে তুলে দেন।
সকাল সাতটার দিকে তাকে বংশাল থানায় নিয়ে আসা হয়।


🔹 জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার স্বীকারোক্তি

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মাহির রহমান নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন।
তিনি জানান, ওই ছাত্রীর সঙ্গে নয় বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল তার।
তবে গত এক বছর আগে ছাত্রী সম্পর্কের ইতি টানেন এবং পরে টিউটর জুবায়েদের প্রতি অনুরাগ গড়ে ওঠে।
এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মাহির প্রতিশোধ নিতে হত্যার পরিকল্পনা করেন।


🔹 পুলিশের বক্তব্য

বংশাল থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন,
“গ্রেপ্তার মাহির হত্যাকাণ্ডে নিজের সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করেছেন। বাকি দুই সহযোগীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে প্রেস ব্রিফিং করা হবে।”