তারেক রহমান কেন দেশে ফিরছেন না—দুটি দেশের আপত্তি কি মূল কারণ? প্রবাসী সাংবাদিক এহসান জুয়েলের বিশ্লেষণে নতুন প্রশ্ন

খালেদা জিয়ার সংকটময় মুহূর্তেও সন্তানের দেশে ফিরতে না পারা নিয়ে জাতীয় অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক

স্টাফ রিপোর্টার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫, নিউজ চ্যানেল বিডি।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান কেন দেশে ফিরছেন না—বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন এটি “মিলিয়ন ডলার প্রশ্ন”। তাঁর সাম্প্রতিক ফেসবুক স্ট্যাটাসে স্পষ্ট না হলেও ইঙ্গিত পাওয়া গেছে—দেশে ফেরা এখন তাঁর একক সিদ্ধান্তের বিষয় নয়। এই প্রেক্ষাপটে প্রবাসী সাংবাদিক এহসান জুয়েল তাঁর ব্যক্তিগত ইউটিউব চ্যানেল “হ্যালো জুয়েল”-এ প্রকাশিত বিশ্লেষণে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তাঁর অনুসন্ধানে উঠে এসেছে দেশি–বিদেশি একাধিক সম্ভাবনা, কূটনৈতিক আপত্তি এবং রাজনৈতিক জটিলতার চিত্র।

সাংবাদিক এহসান জুয়েল বলেন, তারেক রহমান দেশে ফিরতে না পারার প্রসঙ্গটি আরও তীব্রভাবে উঠেছে এমন এক সময়ে, যখন তাঁর মা—বিএনপি চেয়ারপারসন এবং বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনের কেন্দ্রীয় ব্যক্তিত্ব বেগম খালেদা জিয়া—জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন। “একজন সন্তানের জন্য মায়ের এমন সংকটে পাশে থাকতে না পারা সবচেয়ে কষ্টের বিষয়,”—মন্তব্য করেন তিনি।

দুটি দেশের কূটনৈতিক আপত্তি বড় কারণ?

এহসান জুয়েলের মতে, বিভিন্ন আলোচনায় যেটি উঠে এসেছে—দুটি দেশ কূটনৈতিকভাবে আপত্তি জানানোয় তারেক রহমান দেশে ফিরতে পারছেন না। এই দেশগুলোর বার্তা এসেছে পুরোপুরি অভ্যন্তরীণ কূটনৈতিক চ্যানেলে। তারেক রহমান প্রকাশ্যে বিষয়টি বলতে পারছেন না দুটি কারণে—

  • যে দেশগুলো আপত্তি জানিয়েছে তারা শর্ত দিয়েছে—বিষয়টি প্রকাশ হলে রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ঝুঁকিতে পড়বে।
  • তিনি চান না বিএনপির নেতাকর্মীরা হতাশায় ডুবে যাক—কারণ তাঁর দেশে না ফিরতে পারার খবর নির্বাচনী সমীকরণে দলকে দুর্বল করবে।

ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র কি আপত্তিকারী দেশ?

এহসান জুয়েলের বিশ্লেষণে বলা হয়, বহু আলোচনায় পরোক্ষভাবে যেসব দেশের নাম উঠে এসেছে, সেগুলো হলো—

  • ভারত: দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ‘এলার্জি’, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও ভূরাজনৈতিক হিসাব।
  • যুক্তরাষ্ট্র: উইকিলিকসের নথিতে তারেক রহমানকে “ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তি” বা “হুমকি” হিসেবে উল্লেখ, মার্কিন কূটনৈতিক অস্বস্তি।

বিশ্লেষণে বলা হয়—এসব কারণে তারা ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানকে দেখতে অনিচ্ছুক।

তিনি কি অপেক্ষা করছেন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশে ফেরার জন্য?

এহসান জুয়েল বলেন, একটি আন্তর্জাতিক বাস্তবতা হলো—একজন সাধারণ রাজনৈতিক নেতাকে দেশে ফেরাতে বিদেশি শক্তির আপত্তি থাকলেও, একজন সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রীকে আটকানো অনেক কঠিন। তাই তাঁর মতে—

  • তারেক রহমান হয়তো অপেক্ষা করছেন, নির্বাচন শেষে বিএনপি যদি সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করে;
  • এরপর তিনি দেশে ফিরলে আন্তর্জাতিক আপত্তি তুলনামূলকভাবে দুর্বল হয়ে যাবে।

তিনি মন্তব্য করেন, “একটি সার্বভৌম দেশের প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে অন্য দেশের আপত্তি তোলা কঠিন।”

সেনাবাহিনী, মুচলেকা ও নাগরিকত্বের গুজব—কি সত্য আর কি নয়?

এহসান জুয়েলের আলোচনায় আরও উঠে আসে কয়েকটি বিষয়:

১. সেনাবাহিনীর আপত্তি—এখন আর কার্যকর নয়: ২০০৭ সালের ওয়ান-ইলেভেন প্রেক্ষাপটে থাকা আপত্তিগুলো এখন প্রযোজ্য নয় বলে সেনাবাহিনী–সূত্র নিশ্চিত করেছে।

২. মুচলেকার গুঞ্জন: মওদুদ আহমদের বই “কারাগারের দিনগুলো”-এর উদ্ধৃতি উল্লেখ করে তিনি বলেন—তারেক রহমানের সঙ্গে একটি ‘রাজনীতি না করার’ মুচলেকা ছিল বলে দাবি রয়েছে। তবে এটি এখন রাজনৈতিকভাবে কার্যকর নয়।

৩. ব্রিটিশ নাগরিকত্ব বিষয়ক বিতর্ক: তিনি বলেন—“একটি সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী কেবল নাগরিকত্বের কারণে দেশে ফিরতে পারবেন না—এমন যুক্তি দুর্বল।”

দলের স্বার্থে ‘নীরব’ তারেক রহমান?

এহসান জুয়েলের মতে, তারেক রহমান স্পষ্ট করে বলছেন না কেন ফিরছেন না, কারণ তিনি চান না বিএনপি নেতাকর্মীরা হতাশ হয়ে পড়ুক। তিনি জানেন, তাঁকে অনুপস্থিত দেখিয়ে জামায়াত নির্বাচনী ট্রাম্প কার্ড খেলতে পারে—“তারেক আসছেন না, তাই আমাদের ভোট দিন।” তাই দলের ঐক্য ও নির্বাচনী লড়াই বজায় রাখতে তিনি বিষয়টি আড়ালে রাখছেন।

সরকারের ভূমিকা—“আমাদের কোনো আপত্তি নেই”

এই প্রেক্ষাপটে সরকারের পক্ষ থেকে একটি স্পষ্ট বিবৃতিও এসেছে। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন, তারেক রহমানের দেশে ফিরতে সরকারের কোনো ধরনের বাধা বা নিষেধাজ্ঞা নেই। তাঁর সব মামলাই খালাস পেয়েছে। খালেদা জিয়ার অসুস্থতা বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং তাঁর সুস্থতা কামনায় দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।

এহসান জুয়েল বলেন—“সরকার না চাইলেও তাঁকে আটকানোর ক্ষমতা নেই। তাই পরিষ্কার—রাজনৈতিক বাধা নয়, বাইরের শক্তির চাপই বড় কারণ।”

শেষ কথা: তাঁর মা মৃত্যুশয্যায় থাকলেও…

এহসান জুয়েলের মতে, সবচেয়ে হৃদয়বিদারক বাস্তবতা হলো—বেগম খালেদা জিয়া যদি মৃত্যুশয্যায় থেকেও ইন্তেকাল করেন, তবুও তারেক রহমান হয়তো ফিরতে পারবেন না। তিনি বলেন—“রাজনীতি অংক নয়—এটি দাবা। এখানে এক চালের পেছনে থাকে আরও দশটি লুকানো সমীকরণ। বাংলাদেশের ভাগ্যকে ঘিরে আন্তর্জাতিক নীলনকশা এখনও সক্রিয়—এটাই প্রমাণ।”

#তারেক_রহমান #বেগম_খালেদা_জীয়া