অন্তর্বর্তী সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সম্প্রতি গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় মওলানা ভাসানী সেতুর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বলেছেন যে তিনি দেশের মানুষের জন্য রাজনৈতিকভাবে কাজ করতে চান, তবে নির্বাচন করা বা না করার বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি।
উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ আরও বলেন, দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণ এবং রাজনীতিকে জনগণের কল্যাণের পথে ফিরিয়ে আনা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
মওলানা ভাসানী সেতু সম্পর্কে
- অবস্থান: গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ ও কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার মধ্যে তিস্তা নদীর ওপর নির্মিত।
- দৈর্ঘ্য: ১,৪৯০ মিটার।
- ব্যয়: ৯২৫ কোটি টাকা।
- অর্থায়ন: বাংলাদেশ সরকার (জিওবি), সৌদি ফান্ড ফর ডেভেলপমেন্ট (এসএফডি) এবং ওপেক ফান্ড ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট (ওফিড)।
- কাঠামো: দুই লেনবিশিষ্ট এই প্রি-স্ট্রেসড কংক্রিট গার্ডার সেতুর প্রস্থ ৯.৬০ মিটার এবং মোট স্প্যান ৩১টি।
সেতুর অর্থনৈতিক ও সামাজিক গুরুত্ব
এই সেতু স্থানীয় শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মসংস্থানের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এটি কৃষিজাত ও শিল্প পণ্য পরিবহনকে সহজ করবে, স্থানীয় ছোট ও মাঝারি শিল্প গড়ে উঠতে সাহায্য করবে এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করবে।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, নতুন এই পরিবহন করিডোরটির মাধ্যমে রাজধানী ঢাকাসহ দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী স্থলবন্দরের দূরত্ব প্রায় ৪০-৬০ কিলোমিটার কমে যাবে, যা জাতীয় অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখবে।
এলজিইডি অফিস সূত্র জানা গেছে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীনে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে যৌথভাবে সৌদি ফান্ড ফর ডেভেলপমেন্ট (এসএফডি) ও ওপিইসি ফান্ড ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট (ওএফআইডি) অর্থায়নে এবং চায়না স্টেট কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশনের মাধ্যমে প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়। শুরুতে ২০২৩ সালের জুনে শেষ করার কথা থাকলেও, নানা কারণে ৫ বার সময়সীমা পিছিয়ে অবশেষে গত ২০ আগস্ট সেতুটি খুলে দেওয়া হয়। সেতুটি নির্মাণে ব্যবহার করা হয়েছে ২৯০টি পাইল, ৩০টি পিলার, ২৮টি স্প্যান এবং ১৫৫টি গার্ডার। উভয় প্রান্তে পানি নিষ্কাশনের জন্য তৈরি করা হয়েছে ১২টি ব্রিজ ও ৫৮টি বক্স কালভার্ট। পাশাপাশি ১৩৩ একর জমি অধিগ্রহণ করে নদীশাসনসহ মোট ৫৭ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে।
এ সেতুর মূল কাঠামো নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৩৬৭ কোটি টাকা। আর সংযোগ সড়ক, নদীশাসন, কালভার্ট ও জমি অধিগ্রহণে খরচ হয়েছে আরও ৩৬৩ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। তিস্তা নদীর বুকে এটি হলো সবচেয়ে বড় সড়ক।
প্রথম তিস্তা সড়ক সেতুটি নির্মিত হয় ২০১২ সালে লালমনিরহাট সদর উপজেলার গোকুন্ডা এলাকায়। দৈর্ঘ্য ৭৫০ মিটার, ব্যয় হয়েছিল ৮৭ কোটি টাকা। দ্বিতীয়টি নির্মিত হয় ২০১৮ সালে রংপুরের গঙ্গাচড়ার মহিপুরে। দৈর্ঘ্য ৮৫০ মিটার, ব্যয় হয়েছিল ১৩১ কোটি টাকা।





