নির্বাচন নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই, কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত: সিইসি

জেনভোট ফেস্টিভ্যালে তরুণদের ভোটে অংশগ্রহণের আহ্বান, ঐতিহাসিক নির্বাচনের প্রত্যাশা

ছবি: সংগ্রহীত

স্টাফ রিপোর্টার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫, নিউজ চ্যানেল বিডি।
ঢাকা: প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই। নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।
সোমবার সকালে রাজধানীর গুলশান-১ এ অবস্থিত আলোকিতে ‘জেনভোট ফেস্টিভ্যাল’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই। আমরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত। নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এবং সবার সহযোগিতায়। গতকালই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সর্বোচ্চ কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছি। তারাও পুরোপুরি প্রস্তুত।’
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইউরোপীয়ান ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার, সেকেন্ড সেক্রেটারি (পলিটিক্যাল অ্যাফেয়ার্স) ফিলিপ বার্নিয়ার আর্ক্যান্ড, ব্রিটিশ হাইকমিশনের হেড অব পলিটিক্যাল টিমোথি ডাকেট, সুইডেন দূতাবাসের ডেপুটি হেড অব মিশন ইভা স্মেডবার্গ, আইএফইএস কান্ট্রি ডিরেক্টর পল গেরিন এবং নির্বাচন কমিশনের সচিব আখতার হোসেনসহ অন্যান্য অতিথিরা।
সিইসি বলেন, ‘নির্বাচন পর্যন্ত শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের সম্পূর্ণ প্রস্তুতির কথা আমাদের জানিয়েছে। আপনারা সব দুশ্চিন্তা ঝেড়ে দিয়ে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিন। সঠিক সময়ে, সঠিকভাবে একটি সুষ্ঠু ও প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন আমরা দেখতে পাব।’
তিনি জানান, এবারকার নির্বাচন ঐতিহাসিক হতে যাচ্ছে। কারণ প্রথমবারের মতো প্রবাসী বাংলাদেশিরা পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। পাশাপাশি প্রায় ১০ লাখ কর্মকর্তা-কর্মচারী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ভোটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কারাবন্দি এবং নিজ নিজ ভোটকেন্দ্রের বাইরে কর্মরত সরকারি কর্মচারীদের জন্যও ভোটের সুযোগ থাকছে। একই দিনে গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়াও এই নির্বাচনের একটি উল্লেখযোগ্য দিক।
এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, ‘আমরাও সাহস করে নেমে পড়েছি। আমাদের এই সাহসী পদক্ষেপে তরুণরা অংশ নিলে নির্বাচন সফল হবে। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আমরা সবাই মিলেই করব।’
তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমি সবসময় তারুণ্যের শক্তিতে বিশ্বাসী। নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন আমরা তারুণ্যের শক্তির ওপর ভর করেই দেখি। ১৯৭০ ও ১৯৭১ সালে এবং চব্বিশের জুলাই-অগাস্টে তরুণদের ভূমিকা প্রমাণ করেছে, তারা দেশের জন্য কতদূর যেতে পারে।’
সিইসি তরুণদের সাহস, শক্তি ও সৃষ্টিশীলতার প্রতীক হিসেবে অভিহিত করে বলেন, তরুণদের সৃজনশীলতা ও চিন্তাধারা ছাড়া দেশ গড়া সম্ভব নয়। তরুণ জনগোষ্ঠীর উপস্থিতি তাকে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী করে তোলে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে তিনি দেশের তরুণ সমাজকে ভোটে অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের গঠনে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
‘জেনভোট ফেস্টিভ্যাল’-এ তরুণদের ভোটদানে উৎসাহিত করতে মক ভোটিং, কমিকস, ক্যারিকেচার, আর্ট ফেস্টিভ্যালসহ নানা আয়োজন করা হয়েছে। ভোট সংক্রান্ত তথ্য প্রদানের জন্য স্টল বসানো হয়েছে এবং তরুণ ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ভোটারদের জন্য বিশেষ সেশন আয়োজন করা হয়।
এই উদ্যোগে সহযোগী হিসেবে রয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইউকে ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট, সুইডিশ এম্ব্যাসি, কানাডিয়ান তহবিল (সিএফএলআই) এবং ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশন ফর ইলেকটোরাল সিস্টেমস (আইএফইএস)।