ফেনীতে ভয়ভীতি ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ, নির্বাচন নিরপেক্ষ না হলে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

জোরপূর্বক চাঁদা, মিথ্যা মামলা ও প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেন মুজিবুর রহমান মঞ্জু

স্টাফ রিপোর্টার,২৪ জানুয়ারি ২০২৬ নিউ চ্যানেল বিডি

ফেনী: নির্বাচনী পরিস্থিতি নিয়ে গভীর শঙ্কা প্রকাশ করেছেন রাজনৈতিক নেতা মুজিবুর রহমান মঞ্জু। তিনি বলেন, শুরুতে কিছু অনিয়মকে সাময়িক মনে হলেও পরবর্তীতে দেখা গেছে পরিস্থিতি অন্যদিকে মোড় নিচ্ছে। জোরপূর্বক চাঁদা আদায়, মিথ্যা মামলা ও নানা ধরনের হয়রানির ঘটনা সামনে আসছে।

তিনি বলেন, একটি বড় রাজনৈতিক দল তাদের প্রায় ছয় থেকে সাত হাজার নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করেছে, যা একদিকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হলেও অন্যদিকে নতুন শঙ্কার জন্ম দিয়েছে। যেসব নেতাকর্মী কিছুদিন আগেও নির্যাতিত ছিলেন, জেল খেটেছেন ও ঘরছাড়া ছিলেন, তারাই অল্প সময়ের ব্যবধানে জালেমের ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়ায় জনগণের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

মুজিবুর রহমান মঞ্জু জানান, ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী, গণতন্ত্রে আস্থাশীল এবং জুলাই অভ্যুত্থানের অঙ্গীকারে আবদ্ধ সব দল একত্রিত হয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই ঐক্য গড়তে গিয়ে অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ফেনীর জমিনে অধ্যাপক লিয়াকত আলী ভুইয়ার ত্যাগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, গণসংযোগে গেলে তৃণমূলের ভোটাররা তার খোঁজখবর নিচ্ছেন। অনেক ভোটার জানিয়েছেন, তারা ইতোমধ্যে একাধিকবার তার বাড়িতে গিয়েছেন। তিনি বলেন, মানুষ এখন আর নতুন করে ভোট চাইছে না, বরং লিয়াকত আলী ভুইয়ার বিকল্প হিসেবে তাকেই দেখছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ফেনী শহরের বিভিন্ন স্থানে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে বড় বড় বিলবোর্ড স্থাপন করা হলেও প্রশাসনের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। এতে নির্বাচন নিয়ে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ও নিরপেক্ষতা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।

মুজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, প্রয়োজনে তিনি ঢাকায় গিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার, পুলিশ প্রধান ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ফেনীর তিনটি আসনে কোনো ধরনের ভয়ভীতি, সন্ত্রাস বা বলপ্রয়োগ মেনে নেওয়া হবে না। এসব হলে ফেনী থেকেই নতুন আন্দোলন শুরু হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।