ভেবেছিলাম এনসিপি হবে বিপ্লবী, কিন্তু ‘কিংস পার্টি’ আচরণ ফিরেছে: ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন

বিএনপি নেতার অভিযোগ—কিছু দল ক্ষমতার ভাগে জড়িয়ে জনগণের আশা ভেঙে দিচ্ছে, আওয়ামী লীগ দেশকে ভারতের দাসরাষ্ট্রে পরিণত করেছিল

Posted by:

on

ঢাকা, ১২ অক্টোবর ২০২৫ | নিউজ চ্যানেল বিডি:
বিএনপি চেয়ারপারসনের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির বিশেষ সহকারী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন বলেছেন, তিনি একসময় এনসিপির নেতৃত্বকে শ্রদ্ধা করতেন এবং ভেবেছিলেন তারা একটি বিপ্লবী দল হিসেবে উঠে আসবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, তাদের ভেতরে ‘কিংস পার্টি’র আচরণ ঢুকে পড়েছে।

রবিবার বিকেলে রাজধানীর গোপীবাগে সূত্রাপুর, ওয়ারী, বংশাল, কোতায়ালী ও গেন্ডারিয়া থানা শ্রমিক দলের এক সাংগঠনিক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শ্রমিক দলের আহ্বায়ক সুমন ভূইয়া।

ইশরাক বলেন,

“আগে আওয়ামী লীগ যেভাবে লুটপাট, টেন্ডারবাজি ও বদলী বাণিজ্যে জড়িত ছিল, আজ এনসিপির একটি অংশও সেই পথেই হাঁটছে। আমি আশা করি, এনসিপি তাদের ভেতরের এ ধরনের লোকদের বাদ দিয়ে সুস্থ রাজনীতির পথে ফিরে আসবে।”

জামায়াত সম্পর্কে ইশরাক বলেন,

“আমরাও একসাথে রাজনীতি করেছি। কিন্তু এখন তারা শুধু ক্ষমতার লোভে জনগণের সামনে অযৌক্তিক দাবি নিয়ে আসছে। পিআর পদ্ধতি দেশ, জনগণ এবং গণতন্ত্রের জন্য হুমকি।”

বিএনপির এই তরুণ নেতা বলেন,

“৫ আগস্টের পর আমরা কিছু বিপদগামী নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করেছি। কারণ আমাদের ১৭ বছরের আন্দোলন কোনো বাজার বা বাস টার্মিনাল দখলের জন্য নয়—এটি ছিল দেশের মুক্তি ও মানুষের মর্যাদার জন্য।”

তিনি অভিযোগ করেন,

“হাসিনার শাসনামলে মানুষ কথা বলতে পারত না, দম বন্ধ হয়ে যেতো। দেশ ছিল কার্যত ভারতের এক অঙ্গরাজ্য। দিল্লি থেকে নির্ধারণ করা হতো কারা বাংলাদেশ শাসন করবে, কে লুটপাট করবে। আওয়ামী লীগ জনগণকে দাসে পরিণত করেছিল।”

ইশরাক বলেন,

“১৯৯১ সালের নির্বাচনে শেখ হাসিনা এই আসনে পরাজিত হয়েছিলেন, আর ঢাকার মধ্যে এটিই ছিল একমাত্র জয়ী আসন। আমাদের আন্দোলনের লক্ষ্য—গণতন্ত্রকে স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠা করা, জনগণের অধিকার সুরক্ষিত করা এবং স্বৈরাচারমুক্ত রাষ্ট্র গড়া।”

তিনি আরও বলেন,

“গত বছরের রক্তাক্ত ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে তরুণরা ও সাধারণ মানুষ রক্ত দিয়ে প্রতিবাদ করেছে অত্যাচার ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে। যারা জীবন দিয়েছে, তারা ক্ষমতার জন্য নয়—গণতন্ত্র ও ন্যায়ের জন্য আত্মত্যাগ করেছে। শহীদদের রক্তের প্রতি আমাদের দায়িত্ব, এই মুক্ত বাংলাদেশকে ধরে রাখা।”

আওয়ামী লীগ সম্পর্কে তিনি বলেন,

“এরা কোনো রাজনৈতিক দল নয়, এটি একটি সন্ত্রাসী সংগঠন। তারা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব পদদলিত করেছে। আমরা খুনী হাসিনার শুধু বিচার নয়, শাস্তি—তার ফাঁসি দেখতে চাই।”

ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক বক্তৃতার শেষাংশে বলেন,

“বিগত ১৭ বছর বাংলাদেশ ছিল না বাংলাদেশ—এটি ছিল এক উপনিবেশ। এখন সময় এসেছে প্রকৃত স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে নিজেদের দাঁড় করানোর। ঐক্য ধরে রাখলে কেউ আমাদের দাবিয়ে রাখতে পারবে না।”

সভায় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় শ্রমিক নেতা, ব্যবসায়ী ও বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। বক্তারা ঐক্য ও শৃঙ্খলা বজায় রেখে পরবর্তী আন্দোলন সফল করার অঙ্গীকার করেন।