যাত্রা শুরু করলো ভোটের গাড়ি

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদ গণভোটে দেশজুড়ে প্রচারণায় ১০টি সুপার ক্যারাভান স্টাফ রিপোর্টার, ২২ ডিসেম্বর ২০২৫, নিউজ চ্যানেল…

Posted by:

on

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদ গণভোটে দেশজুড়ে প্রচারণায় ১০টি সুপার ক্যারাভান

স্টাফ রিপোর্টার, ২২ ডিসেম্বর ২০২৫, নিউজ চ্যানেল বিডি।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন বিষয়ে গণভোটকে সামনে রেখে সারাদেশে জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে যাত্রা শুরু করেছে ১০টি ভোটের গাড়ি—সুপার ক্যারাভান। সোমবার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এক আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এই প্রচারণা কার্যক্রমের সূচনা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে ফিতা কেটে ভোটের গাড়ির উদ্বোধন করেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা , সংস্কৃতি উপদেষ্টা , নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব এবং প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভিডিও বার্তায় প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় অতিক্রম করছে। সামনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের ওপর গণভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, এই লক্ষ্য সামনে রেখেই ১০টি ভোটের গাড়ি—সুপার ক্যারাভান যাত্রা শুরু করেছে। এসব গাড়ি দেশের ৬৪টি জেলা ও ৩০০টি উপজেলায় ঘুরে বেড়াবে। মানুষের দুয়ারে দুয়ারে গিয়ে নির্বাচন ও গণভোট সম্পর্কে তথ্য পৌঁছে দেবে, ভোটাধিকার বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করবে এবং গণতন্ত্রের বার্তা ছড়িয়ে দেবে।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “ভোটাধিকার কারো দয়া নয়—এটি আমাদের সাংবিধানিক অধিকার। এই অধিকার প্রয়োগের মাধ্যমেই আমরা ঠিক করি, আমাদের ভবিষ্যৎ কোন পথে যাবে।” তিনি আরও বলেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করা শুধু সরকারের নয়, রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব।

তিনি উল্লেখ করেন, “এই সুপার ক্যারাভান কেবল একটি গাড়ি নয়—এটি গণতন্ত্রের আনন্দবানী বহনকারী বহর। এটি জানিয়ে দেবে আপনার একটি ভোট কতটা গুরুত্বপূর্ণ এবং মনে করিয়ে দেবে নিষ্ক্রিয়তা নয়, অংশগ্রহণই গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে।”

তরুণ সমাজ, নারী ভোটার এবং প্রথমবারের ভোটারদের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “এগিয়ে আসুন, প্রশ্ন করুন, জানুন, বুঝুন এবং ভোট দিন। আপনার সিদ্ধান্তেই গড়ে উঠবে আগামী দিনের বাংলাদেশ—নতুন বাংলাদেশ।”

তিনি আরও বলেন, সরকার এমন একটি নির্বাচন চায় যেখানে থাকবে না ভয়, থাকবে না বাধা—থাকবে কেবল জনগণের মুক্ত ও নির্ভীক মতপ্রকাশ। সরকার সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।

জুলাই জাতীয় সনদ প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, দীর্ঘ ৯ মাস ধরে সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করে এই সনদ তৈরি করা হয়েছে। জনগণ যদি এই সনদকে সমর্থন করে, তবে দেশ আগামী বহু বছরের জন্য নিরাপদ ও স্থিতিশীল পথে এগোবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সনদের পক্ষে থাকলে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বক্তব্যের শেষাংশে তিনি বলেন, “চলুন, আমরা সবাই মিলে এই গণতান্ত্রিক যাত্রাকে সফল করি। চলুন, ভোট দিই—নিজের জন্য, দেশের জন্য, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য।”