স্টাফ রিপোর্টার, ৮ জানুয়ারি ২০২৬, নিউজ চ্যানেল বিডি।
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী বলেছেন, ভবিষ্যতে যারা এই দেশ পরিচালনা করবেন তারা যেন আর কখনো ফ্যাসিস্ট হয়ে উঠতে না পারেন—তা নিশ্চিত করতেই এবারের গণভোট আয়োজন করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার ঢাকায় -এর সম্মেলন কক্ষে ‘আসন্ন গণভোট এবং এনজিওসমূহের করণীয়’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কর্মশালায় ব্যুরোর মহাপরিচালক মো. দাউদ মিয়ার সঞ্চালনায় বিশেষ আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐক্যমত্য) এবং (সুজন)-এর সম্পাদক ।
অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, দেশের বিদ্যমান ত্রুটিপূর্ণ সাংবিধানিক ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোর কারণেই ক্ষমতায় থাকা ব্যক্তিরা ফ্যাসিবাদী হয়ে ওঠার সুযোগ পান। তিনি বলেন, “এই সুযোগ বন্ধ করতেই আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটকে বিজয়ী করতে হবে।”
গণভোট কী এবং কেন—এ নিয়ে কোনো বিভ্রান্তির সুযোগ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, অন্যান্য সাধারণ নির্বাচনের মতোই গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। তবে গণভোটের মাধ্যমে জনগণ সিদ্ধান্ত নেবে আগামীর বাংলাদেশ কীভাবে পরিচালিত হবে। তিনি জানান, ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে দুটি ব্যালট পাবেন—জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের ব্যালট হবে সাদা এবং গণভোটের ব্যালট হবে রঙিন।
গণভোটে জনমত সৃষ্টি ও সর্বস্তরের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার দায়িত্ব সবার উল্লেখ করে আলী রীয়াজ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও বিগত সরকারের সময়ে যারা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য প্রাণ দিয়েছেন বা নিপীড়ন-নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তাদের আত্মত্যাগের দায় আমাদের বহন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রের সবথেকে বড় সংকটগুলোর একটি হলো স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির অভাব। গণভোটের মাধ্যমে জনগণের সম্মতিতে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়িত হলে রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পথ সুগম হবে।
এ সময় এনজিও ও উন্নয়নকর্মীদের অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে এনজিওগুলোর গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে; তাই গণভোট বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বিশেষ আলোচক মনির হায়দার বলেন, পাকিস্তানি শাসনামলে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, গণভোটের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত সংস্কার বাস্তবায়িত হলে আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে, অন্যথায় দেশ আবার অতীতের অগণতান্ত্রিক অবস্থায় ফিরে যেতে পারে।
ড. বদিউল আলম মজুমদার কর্মশালায় ‘গণভোট কী ও কেন?’ শীর্ষক উপস্থাপনায় জুলাই জাতীয় সনদে বর্ণিত সংস্কার ও গণভোট সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো তুলে ধরেন।
কর্মশালায় দেশের নিবন্ধিত স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক প্রায় সাড়ে চারশ এনজিওর প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক মো. দাউদ মিয়া জানান, এনজিওগুলোর ৫০–৬০ লাখ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ উপকারভোগীর মধ্যে গণভোট বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টিতে ব্যুরো ও এনজিওগুলো ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে।





