সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতিতে গণভোটের দায়িত্ব কে দিয়েছে — প্রশ্ন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর

‘সংখ্যানুপাতিক নির্বাচন নয়, আগে গণতান্ত্রিক অর্ডার ফিরুক’ — মন্তব্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর।

ফাইল ফটো

তারিখ: ১১ অক্টোবর ২০২৫

স্টাফ রিপোর্টার | নিউজ চ্যানেল বিডি


সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতিতে (Proportional Representation System – PR) নির্বাচনের বিষয়ে গণভোট করার দায়িত্ব রাজনৈতিক দলগুলোকে কে দিয়েছে— এই প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

শনিবার দুপুরে রাজধানীর মৌচাকের কসমস সেন্টারে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ প্রশ্ন তোলেন।
আলোচনার শিরোনাম ছিল “ইলেকশন ২০২৬: এ ক্রিটিকাল লুক অ্যাট প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন”।

“পিআরের জন্য আমাকে গণভোটে যেতে হবে কেন? প্রত্যেকটি দলের অনেকগুলো ইস্যু আছে যেগুলো নিয়ে ঐক্যমত হয়নি। তাহলে যদি গণভোটের প্রক্রিয়ায় যাওয়া হয়, আগামী দুই বছর তো গণভোটই করতে হবে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে— এই দায়িত্ব আমাদের কে দিয়েছে? জনগণ আমাদেরকে গণভোট করার দায়িত্ব দেয়নি,” — বলেন আমির খসরু।

তিনি আরও বলেন,

“বাংলাদেশে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়েছে সংবিধানের ভিত্তিতে। সেই সংবিধানের আওতাতেই সরকার চলছে। সুতরাং গণতান্ত্রিক অর্ডার ফিরিয়ে আনতে হলে প্রথমে বর্তমান সংবিধানের আওতায় নির্বাচন করতে হবে। এরপরই পরিবর্তনের প্রসঙ্গ আসতে পারে।”

তার মতে,

“যখন আমরা গণতান্ত্রিক অর্ডারে ফিরব, তখন পার্লামেন্টে, জনসভায় বা বিভিন্ন ফোরামে আলোচনার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শক্তিশালী করা সম্ভব। কিন্তু এখন তো আমরা গণতান্ত্রিক অর্ডারের মধ্যেই নেই। বর্তমানে ১৪ মাস ধরে এমন একটি সরকার চলছে, যা জনগণের নির্বাচিত নয়। তাই প্রথমেই দরকার একটি নির্বাচিত সরকার ও সংসদ গঠন।”


‘পিআর পদ্ধতিতে জনগণের কোনো সুবিধা নেই’ — আবদুল মঈন খান

একই অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান বলেন,

“পিআর পদ্ধতিতে জনগণের কোনো সুবিধা নেই। এটি শুধু কিছু দলের আসন বৃদ্ধি করবে। আমি যদি সোজা কথায় বলি — পিআর চাওয়া হচ্ছে কারণ এতে পার্লামেন্টে কিছু বাড়তি সিট পাওয়া যাবে। কিন্তু এতে জনগণের মৌলিক দাবিগুলো উপেক্ষিত হবে। এটা গণতন্ত্রের ভাষা নয়।”

তিনি আরও বলেন,

“পিআর মানে হলো ব্যক্তির অবস্থান দুর্বল করে দলের অবস্থান শক্তিশালী করা। এতে দল নির্ধারণ করবে কে প্রার্থী হবেন। ফলে জনগণের সরাসরি প্রতিনিধিত্ব ও জবাবদিহি কমে যাবে। আমাদের রাজনৈতিক ইতিহাসে দেখা গেছে — যখন দল অতিরিক্ত শক্তিশালী হয়েছে, তখন জনগণের জন্য দুর্যোগ নেমে এসেছে।”


‘যেকোনো কিছুর আগে জনরায় দরকার’

আমির খসরু বলেন,

“জনগণ পিআর সম্পর্কে কিছুই জানে না। যারা পিআরের পক্ষে, তাদের উচিত এটি নির্বাচনী ইশতেহারে তুলে ধরে জনগণের কাছ থেকে ম্যান্ডেট নেওয়া। জাতীয় ঐক্যমত্য কমিশনের যেসব বিষয়ে ঐক্যমত হয়েছে, সেগুলো জনগণের কাছে যেতে হবে।”

তিনি আরও বলেন,

“বাংলাদেশের জনগণ কোনো রাজনৈতিক দল বা কমিশনকে দায়িত্ব দেয়নি যে তারা দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে। গণতন্ত্র মানে সংলাপ, আলোচনা, অংশগ্রহণ — সেটার মাধ্যমেই ঐক্যমত তৈরি হয়।”

“ঐক্যমত্য কমিশন সব কিছু নির্ধারণ করে দিতে পারবে না। যতটুকু ঐক্যমত হবে, ততটুকু চূড়ান্ত করে বাকি বিষয়ে জনগণের কাছে যেতে হবে এবং ম্যান্ডেট নিতে হবে,” — মন্তব্য করেন তিনি।


অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন

কসমস গ্রুপ ও ইউনাইটেড নিউজ অব বাংলাদেশ (ইউএনবি)-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন কসমস গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এনায়েতউল্লাহ খান।

অন্যান্য অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিলেন —

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না,

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক,

জামায়াতে ইসলামী সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ,

এবি পার্টির আহ্বায়ক মজিবুর রহমান মঞ্জু,

গণসংহতি আন্দোলনের আবুল হাসান রুবেল,

গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান,

সাবেক নির্বাচন কমিশন সচিব সম জকরিয়া প্রমুখ।