জুলাই সনদে আইনগত ভিত্তি আসছে গণভোটের মাধ্যমে

জাতীয় ঐক্যমত কমিশনের আলোচনায় সিদ্ধান্ত, প্রথম সংসদ অধিবেশনেই অনুমোদন পাবে জুলাই জাতীয় সনদ

Posted by:

on

স্টাফ রিপোর্টার | নিউজ চ্যানেল বিডি
ঢাকা, শুক্রবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৫

গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান শুক্রবার সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে জানিয়েছেন, জাতীয় ঐক্যমত কমিশনের আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত হয়েছে জুলাই সনদের আইনগত ভিত্তি দেওয়া হবে। এবিষয়ে কোনো রাজনৈতিক দল আপত্তি জানায়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

রাশেদ খান জানান, আইনগত ভিত্তি দেওয়ার প্রক্রিয়া হিসেবে “জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ” প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করে গণভোটে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গণভোটে অনুমোদনের পর প্রথম সংসদ অধিবেশনে জুলাই জাতীয় সনদের বিষয়গুলো পাস করা হবে। এর মাধ্যমে আসন্ন সংসদ একইসাথে সংসদীয় ক্ষমতা ও গাঠনিক ক্ষমতা (Constituting Power) পাবে।

তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারপ্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসের পরামর্শে জাতীয় ঐক্যমত কমিশন একটি বড় জাতীয় অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রস্তুতি নিয়েছে, যাতে পুরো জাতিকে এই প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করা যায়।

রাশেদ খান অভিযোগ করেন, সরকারের সঙ্গে এনসিপির (NCP) কিছু দূরত্ব তৈরি হওয়ায় তারা সরকারকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, “উপদেষ্টাদের ‘সেইফ এক্সিট’ নিয়ে বক্তব্য প্রদানের মাধ্যমে তারা অযথা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।”

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, “উপদেষ্টাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের পরামর্শে—যারা বর্তমানে এনসিপির নেতৃত্বে আছেন।”

রাশেদ খান বলেন,

“নাহিদ ইসলাম নিজেই এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ছয় সদস্যের লিয়াজোঁ কমিটির পরামর্শে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা হয়েছে। এখন সেই তাদের সঙ্গেই মতবিরোধ তৈরি হয়েছে। এর দায় অন্যরা নেবে কেন?”

তিনি এনসিপি নেতাদের উদ্দেশে পরামর্শ দেন,

“আপনাদের দ্বারা গঠিত সরকার ও উপদেষ্টাদের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যা মেটান। মানুষকে বিভ্রান্ত করতে ‘আইনগত ভিত্তি’র অজুহাত দেবেন না। আজকের এই আয়োজনই প্রমাণ করে সরকার জাতিকে এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত করতে চায়।”

শেষে রাশেদ খান লিখেছেন,

“আজ অনেকেই বিভ্রান্ত, কিন্তু সময় প্রমাণ করবে—ড. মুহাম্মদ ইউনূস স্যারই ঠিক ছিলেন। তখনই এই হঠকারিতার জন্য অনেকে লজ্জা পাবেন ও আফসোস করবেন।”