স্টাফ রিপোর্টার | ২৮ অক্টোবর, ঢাকা | নিউজ চ্যানেল বিডি
রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে ‘হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা’ থেকেই জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষর করেনি জাতীয় নাগরিক পার্টি–এনসিপি। এমন দাবি করেছেন দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
তার ভাষায়, যদি এনসিপি সনদে স্বাক্ষর করত, তাহলে তারা আজকের অবস্থানে থাকতে পারতেন না।
মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়নে রূপরেখা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এ কথা বলেন তিনি।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন,
“এনসিপির প্রতি অভিযোগ ছিল, কেন আমরা জুলাই সনদে স্বাক্ষর করিনি। আমরা যদি স্বাক্ষর করতাম, তাহলে হয়তো আজকের এই পরিস্থিতিতে আমরা আসতে পারতাম না। আমাদের ঝুঁকি ছিল—স্বাক্ষর না করলে রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে হারিয়ে যাব কি না। তবুও আমরা জনগণের পক্ষে থেকে নৈতিক অবস্থান নিয়েছি।”
তিনি বলেন, “আমরা আহত সৈনিকদের এবং বাংলাদেশের জনগণের পক্ষে দাঁড়াতে চেয়েছি। তাই সব ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও একটি সাহসী সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। আজ আমরা তার ফলাফল পাচ্ছি, এজন্য ঐকমত্য কমিশনকে ধন্যবাদ জানাই।”
গেল ১৭ অক্টোবর অধিকাংশ রাজনৈতিক দল জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষর করলেও, অভ্যুত্থানে নেতৃত্বদানকারী এনসিপি ও আরও পাঁচটি দল ওই অনুষ্ঠানে যোগ দেয়নি।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, “অনেকে বলে, আমরা জুলাই বিক্রি করে দিয়েছি। কিন্তু আমরা জুলাইকে বিক্রি করতে আসিনি, বরং সঠিক পথে রাখার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছি।”
সংবিধান প্রসঙ্গে তিনি বলেন,
“বাংলাদেশে এখনো প্রকৃত অর্থে কোনো সংবিধান নেই। একেক নেতা যা বলেছেন, তাই সংবিধান হয়েছে—মুজিবের আইন, জিয়ার আইন, এরশাদের আইন, খালেদা জিয়ার আইন, শেষে শেখ হাসিনার আইন। এই পচা সংবিধান দিয়ে বাংলাদেশ চলতে পারে না।”
এনসিপি নেতা জানান, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় ভুল–ভ্রান্তি রয়েছে, যা রাজনৈতিক দল ও বিশেষজ্ঞদের আলোচনার মাধ্যমে সংশোধনের প্রয়োজন।
বৈঠকে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের লিখিত রূপরেখা উপস্থাপন করেন এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব জহিরুল ইসলাম মুসা।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন—এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ, সারোয়ার তুষার, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শিশির মনির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আসিফ শাহান, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাসরীন সুলতানা মিলি, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ হাসিব উদ্দিন হোসেন, ইসলামী আন্দোলনের প্রচার সম্পাদক শেখ ফজলুল করিম মারুফ, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি এবং সাংবাদিক রাজীব আহাম্মেদ।





