স্টাফ রিপোর্টার, ০৩ মার্চ ২০২৬, নিউজ চ্যানেল বিডি
সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. জাহিদ হাসান বলেছেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি কোনো বঞ্চনার বিষয় নয়, এটি একটি ইউনিভার্সাল উদ্যোগ। সবাই এই কার্ড পাবে, তবে হতদরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত পরিবার সরাসরি সুবিধাভোগী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
তিনি জানান, নির্বাচন পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী বিভিন্ন ওয়ার্ডের জনসংখ্যা ও পরিবারের সংখ্যা আগেই চিহ্নিত করা হয়েছিল। কড়াইল বস্তি, সাততলা বস্তি, ভাষানটেক ও অলিটেকসহ ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বিপুলসংখ্যক পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। কড়াইল এলাকায় প্রায় ৪৪ হাজার হাউসহোল্ড রয়েছে। চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় ১৫ হাজারের বেশি, খুলনার খালিশপুরে ৭ হাজারের বেশি এবং চরফ্যাশনের কিছু এলাকায় কয়েকশ পরিবারের তথ্য পাওয়া গেছে। এলাকাভেদে পরিবারের সংখ্যা ভিন্ন হওয়ায় চূড়ান্ত সংখ্যা নির্ধারণে সময় লাগছে।
মন্ত্রী বলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঘরে ঘরে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করেছেন। তথ্য সংগ্রহ শেষ হয়েছে, এখন ডাটা এন্ট্রি চলছে। এন্ট্রি শেষ হলে প্রতিটি পরিবারের জন্য স্মার্ট কার্ডের মতো একটি কার্ড প্রিন্ট করা হবে, যেখানে পরিবারের সব তথ্য সংরক্ষিত থাকবে।
তিনি আরও বলেন, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত পরিবারও কার্ড পাবে। তবে তাদের কার্ডে কিউআর কোডের মাধ্যমে উল্লেখ থাকবে যে তারা রাষ্ট্রীয় তহবিলে অবদান রাখছেন, যাতে সুবিধাবঞ্চিতরা প্রাপ্য সহায়তা পায়। এটি সামাজিক দায়বদ্ধতা ও অংশগ্রহণের একটি ব্যবস্থা।
নারীর ক্ষমতায়নকে গুরুত্ব দিয়ে পরিবারকে একক ইউনিট হিসেবে ধরা হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী। তার ভাষ্য, একটি পরিবার অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হলে সন্তানের শিক্ষা ও পুষ্টিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে, যা পরবর্তী প্রজন্মকে এগিয়ে নেবে।
তিনি বলেন, সফটওয়্যারে এমন ব্যবস্থা রাখা হয়েছে যাতে পরিবারের আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন অনুযায়ী শ্রেণি হালনাগাদ করা যায়। কারও অবস্থার উন্নতি হলে সে সুবিধাভোগীর তালিকা থেকে বেরিয়ে যাবে, আবার অবনতি হলে অন্তর্ভুক্ত হবে। ধীরে ধীরে সুবিধাভোগীর সংখ্যা কমে আসাই এই কর্মসূচির লক্ষ্য।
মন্ত্রী জানান, এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া এবং পর্যায়ক্রমে দেশের সব উপজেলায় বিস্তৃত করা হবে।





