উত্তরা দিয়াবাড়ি থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত মেট্রোরেল চলাচল চালু হলেও আপাতত আগারগাঁও থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। বিয়ারিং প্যাড পড়ে যাওয়ায় এই অংশে চলাচল শুরু করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারুক আহমেদ।
রোববার দুপুর ২টার দিকে তিনি জানান, যন্ত্রপাতি না আসায় দ্রুত মেরামত করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে দুই থেকে তিন ঘণ্টার মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে। এরই মধ্যে আগারগাঁও–উত্তরা অংশে ট্রেন চলাচল পুনরায় শুরু হয়েছে।
এর আগে দুপুর সোয়া ১২টার দিকে রাজধানীর ফার্মগেট এলাকায় মেট্রো লাইনের ওপর থেকে বিয়ারিং প্যাড খুলে পড়ে এক পথচারীর মৃত্যু হয়। নিহত ব্যক্তির নাম আবুল কালাম আজাদ (৪০)। তাঁর গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুরে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হাঁটার সময় হঠাৎ ওপর থেকে ভারী প্যাডটি পড়ে তার মাথায় লাগে এবং ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান।
নিহতের মরদেহ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তেজগাঁও জোনের ডিসি ইবনে মিজান। ঘটনাস্থলের পরপরই মেট্রোরেল চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়।

সেখানে পরিদর্শনে গিয়ে সড়ক পরিবহন উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন, মেরামতের পর পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ হলেই পুরো লাইন চালু করা হবে। দুর্ঘটনা এড়াতে সব ধরনের সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে।
ডিএমটিসিএলের ফেসবুক পেজে জানানো হয়েছে—
‘কারিগরি ত্রুটির কারণে মেট্রোরেলের চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। যাত্রীসাধারণের অসুবিধার জন্য দুঃখিত।’
ডিএমটিসিএল সূত্র বলছে, মেট্রো লাইনের পিলারের কম্পন নিয়ন্ত্রণে ১৪০ থেকে ১৫০ কেজি ওজনের বিয়ারিং প্যাড ব্যবহার করা হয়। এগুলো রাবারের তৈরি এবং উড়াল পথের পিলারের সঙ্গে যুক্ত থাকে।
গত বছর ১৮ সেপ্টেম্বরও একই ধরনের ঘটনা ঘটে। তখন আগারগাঁও–মতিঝিল অংশে ১১ ঘণ্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল। নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই এ নিয়ে দ্বিতীয়বার এমন ঘটনা ঘটল।
উল্লেখ্য, দেশের প্রথম মেট্রোরেল ২০২২ সালের ২৮ ডিসেম্বর চালু হয়। ডিএমটিসিএলের তথ্য অনুযায়ী, উদ্বোধনের পর থেকে গত জুন পর্যন্ত প্রায় ১৫ কোটি ৭৫ লাখ যাত্রী মেট্রোরেলে যাতায়াত করেছেন।





