‘জামায়াত মিথ্যা বলে জনগণকে বিভ্রান্ত করছে’ — মির্জা ফখরুল

জাতীয় প্রেসক্লাবে মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশে বিএনপি মহাসচিবের অভিযোগ—‘বিএনপি নয়, জামায়াতই নির্বাচন পেছাতে চায়’

Posted by:

on

স্টাফ রিপোর্টার | ১ নভেম্বর ২০২৫ | নিউজ চ্যানেল বিডি

ঢাকা:
“জামায়াতে ইসলামী মিথ্যা কথা বলে জনগণকে বিভ্রান্ত করছে,”— এমন অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের উদ্যোগে আয়োজিত এক ‘মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশে’ তিনি বলেন, “এখন একটা দল বলছে, বিএনপি নাকি নির্বাচন পেছাতে চায়। কিন্তু বিএনপি তো নির্বাচনমুখী দল, আমরা বারবার বলেছি—নির্বাচনটা দ্রুত করতে হবে।”

মির্জা ফখরুল বলেন, “এসব মিথ্যা কথা বলে জনগণকে প্রতারণা করবেন না, মানুষকে বিভ্রান্ত করবেন না।”

জামায়াত নেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহেরের বক্তব্যের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “আজকের কাগজে দেখলাম তাহের সাহেব বলেছেন বিএনপি নাকি নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করছে। কিন্তু নির্বাচন পেছানোর কথা তো আপনারাই বলছেন।”

তিনি আরও বলেন, “আপনারাই পিআরের দাবি তুলে নতুন করে অচলাবস্থা সৃষ্টি করেছেন, যা আলোচনার বিষয় ছিল না। মানুষকে বোকা ভাববেন না।”


‘একাত্তরকে নিচে নামাতে চায় একটি শক্তি’

মির্জা ফখরুল বলেন, “যারা ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, তারা আজকে ৭১-কে নিচে নামিয়ে ২০২৪-এর আন্দোলনকে বড় করে দেখাতে চায়। কিন্তু ৭১ সাল আমাদের জন্মের ঠিকানা, আমাদের অস্তিত্বের প্রতীক। এটি ভুলিয়ে দেওয়ার কোনো অবকাশ নেই।”

তিনি আরও বলেন, “১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকে যারা ‘গোলমাল’ বলেছিল, তারা আজকে আবার মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে। নিজেদের অতীত ভুলে গিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করছে।”


‘জুলাই সনদ ও পিআর নিয়ে বিভ্রান্তি’

জুলাই জাতীয় সনদ প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “আমরা যে বিষয়ে সই করেছি, তার দায় আমরা নেব। কিন্তু যেসব বিষয়ে সই করিনি, তার দায় বিএনপি নেবে না। এখন তারা নতুন কিছু বিষয় যোগ করে জনগণকে প্রতারণা করছে।”

তিনি বলেন, “পিআর হবে কি না, সেটা আগামী সংসদ সিদ্ধান্ত নেবে। নির্বাচন ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতেই হতে হবে।”


‘গণভোট ও নির্বাচন একই দিনে’

গণভোট প্রসঙ্গে ফখরুল বলেন, “আমরা বলেছি—গণভোট ও নির্বাচন একদিনেই করতে হবে। আলাদা করে গণভোট করলে খরচ বাড়বে। এখন যারা আগে গণভোট চাচ্ছেন, তারাই নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন।”


‘ভারত সরকার হাসিনাকে ফেরত দিক’

মির্জা ফখরুল বলেন, “ভারতে বসে শেখ হাসিনা অপপ্রচার চালাচ্ছেন, কিন্তু একবারের জন্যও অনুশোচনা প্রকাশ করেননি। ভারত সরকারকে আমরা অনুরোধ করছি—হাসিনাকে দ্রুত বাংলাদেশে ফেরত দিন এবং বিচারের মুখোমুখি করুন। সবসময় বাংলাদেশের মানুষের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবেন না।”


‘মুক্তিযোদ্ধাদের সজাগ থাকার আহ্বান’

মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্দেশে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “আপনারা এই দেশ স্বাধীন করেছেন। এখন দেশ রক্ষার দায়িত্বও আপনাদের। সব ষড়যন্ত্র জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিহত করব, দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করব ইনশাআল্লাহ।”


‘কঠিন সময় পার করছি’

তিনি বলেন, “আমরা অত্যন্ত কঠিন সময় পার করছি। এটা আমাদের জন্য একটা পরীক্ষা। ধৈর্য ধরে এই সময় পার করতে হবে, যাতে নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হয়।”


সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত। এতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, নজমুল হক নান্নু, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক জয়নাল আবেদীন, নির্বাহী কমিটির মিজানুর রহমান ও রিটা রহমানসহ সারাদেশ থেকে আগত মুক্তিযোদ্ধারা উপস্থিত ছিলেন।