জুলাই সনদে স্বাক্ষর না করায় জামায়াত–এনসিপি সম্পর্কে টানাপোড়েন

জুলাই সনদ স্বাক্ষর না করার ইস্যুতে জামায়াত ও এনসিপির রাজনৈতিক দূরত্ব স্পষ্ট, নাহিদ ইসলামের ফেসবুক পোস্টে উত্তেজনা বৃদ্ধি

Posted by:

on

নিজস্ব প্রতিবেদক | নিউজ চ্যানেল বিডি

জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের পর সংস্কার ও রাজনৈতিক পুনর্গঠনের আলোচনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) অবস্থানে মিল দেখা গেলেও জুলাই সনদে জামায়াতের স্বাক্ষর ও এনসিপির অনুপস্থিতির পর সেই সম্পর্কের পরিবর্তন ঘটেছে।

সম্প্রতি এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে দুই দলের মধ্যে মতপার্থক্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। গত এক বছরে বেশ কিছু ইস্যুতে দুই দলের ঘনিষ্ঠতা দেখা গেলেও এখন এনসিপির সমালোচনামূলক অবস্থান নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।


সনদে স্বাক্ষর না করার কারণ

এনসিপি জানিয়েছে, আইনি ভিত্তি নিশ্চিত না হলে তারা জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষর করবে না। দলটির নেতারা এর আগে জামায়াতসহ অন্যান্য দলের সঙ্গে এই বিষয়ে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা করেছিলেন। এনসিপি চাইছিল, আইনি ভিত্তি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আরও কয়েকটি দলও যেন সনদে স্বাক্ষর না করে।

সরকার ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের পক্ষ থেকে এনসিপিকে স্বাক্ষরে রাজি করানোর চেষ্টা চললেও দলটি ১৬ অক্টোবর রাতে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেয়, তারা জুলাই সনদে সই করছে না।

দলীয় সূত্র জানায়, সনদ স্বাক্ষরের দিন (১৭ অক্টোবর) জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের নাহিদ ইসলামকে অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার অনুরোধ করেন, কিন্তু সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যাত হয়। ওই দিন সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিএনপি, জামায়াতসহ ২৪টি দল সনদে স্বাক্ষর করলেও এনসিপি অনুপস্থিত থাকে।


নাহিদের ফেসবুক পোস্ট

রোববার বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে নাহিদ ইসলাম লিখেন,

“জামায়াতের পিআর (সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব) আন্দোলন একটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক প্রতারণা ছাড়া আর কিছু নয়।”

তিনি আরও লেখেন,

“গণ–অভ্যুত্থানের পর সংবিধান ও রাষ্ট্র পুনর্গঠনের প্রশ্ন থেকে সংস্কার প্রক্রিয়াকে সরিয়ে দেওয়ার জন্যই পরিকল্পিতভাবে পিআর পদ্ধতির বিষয়টি সামনে আনা হয়েছিল।”

নাহিদের দাবি, জামায়াত কখনোই সংস্কার আলোচনায় যুক্ত হয়নি, কোনো কার্যকর প্রস্তাব দেয়নি এবং গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের প্রতি কোনো অঙ্গীকার দেখায়নি। তাঁর ভাষায়,

“সংস্কারবাদের ছদ্মবেশে জামায়াতের এই অনুমোদন একটি কৌশলগত অনুপ্রবেশ—সংস্কার আকাঙ্ক্ষার নয়।”


জামায়াতের প্রতিক্রিয়া

রোববার রাতে এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন,

“নাহিদ ইসলামের বক্তব্য অস্পষ্ট ও বিভ্রান্তিকর। তাঁর কাছ থেকে জাতি এমন বালখিল্য বক্তব্য আশা করে না।”

বিবৃতিতে আরও বলা হয়,

“জুলাই জাতীয় সনদকে আইনি ভিত্তি দেওয়ার দাবিতে জামায়াতে ইসলামী সবসময় দৃঢ় অবস্থানে আছে। নাহিদ ইসলামের বক্তব্যের কোনো যৌক্তিক ভিত্তি নেই।”

জামায়াত নেতা এহসানুল মাহবুব নাহিদ ইসলামকে “বিভ্রান্তিকর মন্তব্য” থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।


জুলাই সনদ স্বাক্ষর ইস্যুতে একসময় সংস্কার আলোচনায় ঘনিষ্ঠ দুটি দল—জামায়াত ও এনসিপির মধ্যে রাজনৈতিক দূরত্ব এখন দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে।