ঢাকা, ১৫ অক্টোবর ২০২৫ (নিউজ চ্যানেল বিডি):
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, জুলাই সনদ সইয়ের মধ্য দিয়ে একটি বড় অধ্যায়ের সমাপ্তি হলেও, একই সঙ্গে আরও বহু নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে।
তিনি বলেন, “আমরা এমনভাবে এগোবো, যাতে এটি কোথাও হারিয়ে না যায়। পাঠ্যবইসহ বিভিন্ন জায়গায় এটিকে ছড়িয়ে দেওয়ার কাজ করতে হবে।”
বুধবার (১৫ অক্টোবর) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বৈঠকে এসব কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টা।
‘দলিলগুলো হারিয়ে যাবে না’
ড. ইউনূস বলেন, “আপনারা যে দলিলগুলো তৈরি করেছেন, সেগুলো হারিয়ে যাবে না। আমি যতদিন পারি চেষ্টা করবো, যেন এগুলো প্রত্যেকের কাছে পৌঁছে যায়।
আমরা কেন একমত হতে পেরেছি, সেটা সবাই যেন বুঝতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, “একমত হওয়া এক বিষয়, কিন্তু সেই ঐকমত্য সঞ্চারিত করা আরেক বিষয়।
এই সঞ্চারণের দায়িত্ব আমাদের নিতে হবে— সরকার হিসেবে আমরা সেই প্রক্রিয়া শুরু করবো। বিষয়গুলো জনগণের কাছে সহজ ভাষায় প্রচার করতে হবে।”
প্রধান উপদেষ্টা জানান, “আপনারা যে বিতর্কগুলো করেছেন, সেগুলো অমূল্য সম্পদ। এগুলো বিষয়ভিত্তিকভাবে ভিডিও, বই আকারে সংরক্ষণ করা হবে। সামাজিক মাধ্যমেও প্রচারের ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে সবাই জানতে পারে কীভাবে আমরা ঐকমত্যে পৌঁছেছি।”

‘অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন আপনারা’
ড. ইউনূস বলেন, “আপনারা যে অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন, সেটা শুধু বাংলাদেশের ইতিহাসেই নয়, বরং পৃথিবীর রাজনৈতিক ইতিহাসেও স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
আপনারা কঠিন কঠিন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন, আন্তরিকভাবে সমাধানে এসেছেন— এজন্যই আজ জুলাই সনদ রচিত হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “আজকের এই মুহূর্তটি এক অবিশ্বাস্য কাণ্ড। বাংলাদেশের একজন নাগরিক হিসেবে আমি গর্বিত।
আপনাদের এই অবদান ইতিহাসের স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।”
‘জুলাই সনদে জাতির অংশগ্রহণ’
প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, “ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর এটাই সঠিকভাবে রচিত হলো। জুলাই সনদ সই অনুষ্ঠানে সারা জাতি শরিক হবে।
যে কলমে সই করা হবে, সেটি জাদুঘরে সংরক্ষণ করা হবে— কারণ এটি জাতির জন্য এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত।”
তিনি যোগ করেন, “আমরা এখন যে ঘটনাটির মধ্যে আছি, সেটার বিশালতা আমরা হয়তো এখন পুরোপুরি উপলব্ধি করতে পারছি না। কিন্তু ভবিষ্যতে এটি ইতিহাসে যুগযুগ ধরে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।”
ড. ইউনূস বৈঠকে উপস্থিত সবাইকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, “আপনাদের পরিশ্রম, অধ্যবসায় ও দায়িত্ববোধ জাতি হিসেবে আমরা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবো।”





