স্টাফ রিপোর্টার, ০৯ মার্চ ২০২৬, নিউজ চ্যানেল বিডি
নারীর ক্ষমতায়ন, অর্থনৈতিক মুক্তি এবং সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে নারী প্রধান পরিবারগুলোর জন্য বিশেষ ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি চালু করা হচ্ছে।
আগামীকাল রাজধানীর বনানীস্থ টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে (কড়াইল বস্তি সংলগ্ন) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।
আজ সোমবার সচিবালয়ে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, পাইলট পর্যায়ে দেশের ১৩টি জেলার ১৫টি ওয়ার্ডে কর্মসূচিটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রতিটি পরিবারের আর্থ-সামাজিক অবস্থা যাচাইয়ের জন্য ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করা হয়।
ওয়ার্ড কমিটি বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারের সদস্য সংখ্যা, শিক্ষা, বাসস্থান, ব্যবহৃত গৃহস্থালী সামগ্রী, রেমিট্যান্সসহ বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে। এসব তথ্য ইউনিয়ন ও উপজেলা কমিটির মাধ্যমে যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করা হয়েছে।
পাইলট পর্যায়ে সারাদেশে মোট ৬৭ হাজার ৮৫৪টি নারী প্রধান পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। সফটওয়্যারভিত্তিক প্রক্সি মিনস টেস্ট বা দারিদ্র্য সূচকের মাধ্যমে পরিবারগুলোকে হতদরিদ্র, দরিদ্র, নিম্ন মধ্যবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত শ্রেণীতে ভাগ করা হয়।
যাচাই-বাছাই শেষে ডাবল ডিপিং, সরকারি চাকরি, পেনশনসহ বিভিন্ন কারণ বিবেচনায় চূড়ান্তভাবে ৩৭ হাজার ৫৬৭টি নারী প্রধান পরিবারকে ভাতা প্রদানের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে।
ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় প্রতিটি নারী প্রধান পরিবার একটি আধুনিক স্মার্ট কার্ড পাবে। স্পর্শবিহীন চিপ, কিউআর কোড এবং এনএফসি প্রযুক্তি সম্বলিত এই কার্ড ব্যবহার করা সহজ ও নিরাপদ হবে। সাধারণত পাঁচ সদস্যের একটি পরিবারের জন্য একটি কার্ড দেওয়া হবে, তবে যৌথ পরিবারের ক্ষেত্রে সদস্য সংখ্যার ভিত্তিতে একাধিক কার্ড দেওয়া হতে পারে।
এই কর্মসূচির আওতায় নির্বাচিত পরিবারগুলো প্রাথমিকভাবে মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা ভাতা পাবে। পরবর্তী সময়ে সমমূল্যের খাদ্য সহায়তা দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে।
ভাতা সরাসরি জি-টু-পি (Government to Person) পদ্ধতিতে উপকারভোগী নারীর মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক হিসাবে জমা হবে, যাতে কোনো মধ্যস্থতা বা বিলম্ব ছাড়াই সুবিধাভোগীরা সহায়তা পেতে পারেন।
পাইলট পর্যায়ে এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য জুন ২০২৬ পর্যন্ত মোট ৩৮ দশমিক ০৭ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ২৫ দশমিক ১৫ কোটি টাকা সরাসরি নগদ সহায়তা হিসেবে বিতরণ করা হবে এবং বাকি অর্থ তথ্য সংগ্রহ, অনলাইন সিস্টেম উন্নয়ন ও কার্ড প্রস্তুতিতে ব্যয় করা হবে।





