ঢাকা, ২৯ অক্টোবর ২০২৫:
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, আগামী জাতীয় নির্বাচন বানচালের ভেতরের বা বাইরের যে কোনো ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিতে হবে।
আজ বুধবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি সংক্রান্ত এক উচ্চ পর্যায়ের সভায় তিনি এই নির্দেশনা দেন।
বৈঠক শেষে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
মানুষকে সচেতন করতে হবে: ইউনূস
প্রেস সচিব জানান, প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন,
“আগামী নির্বাচন সুন্দর ও উৎসবমুখর করতে হলে মানুষের কাছে পৌঁছতে হবে। নির্বাচনী নীতিমালা, ভোটকেন্দ্রের নিয়ম, কীভাবে ভোট দিতে হবে, কোথাও বিশৃঙ্খলা হলে কী করতে হবে— এসব বিষয়ে মানুষকে সচেতন করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন,
“নির্বাচন বানচালের জন্য ভেতর থেকে, বাইরে থেকে অনেক শক্তি কাজ করবে। ছোটখাট না, বড় শক্তি নিয়ে বানচালের চেষ্টা হবে। হঠাৎ করে আক্রমণও আসতে পারে। এই নির্বাচন হবে চ্যালেঞ্জিং। যত ঝড়ঝঞ্ঝাই আসুক, আমাদের সেটি অতিক্রম করতে হবে।”
বৈঠকের চার প্রধান আলোচ্য বিষয়
প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে চারটি মূল ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়—
১️⃣ নির্বাচনকালীন পদায়ন ও বদলি,
২️⃣ প্রশিক্ষণ (ট্রেনিং),
৩️⃣ নিরাপত্তা ব্যবস্থা, এবং
৪️⃣ সোশ্যাল মিডিয়ায় ডিসইনফরমেশন মনিটরিং।
বদলি ও পদায়ন প্রক্রিয়া শুরু
প্রেস সচিব জানান, স্বরাষ্ট্র ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে নির্বাচনী কর্মকর্তাদের বদলি ও পদায়ন প্রক্রিয়া শুরু করেছে। কর্মকর্তাদের দক্ষতা, অভিজ্ঞতা এবং এলাকার গুরুত্ব বিবেচনায় পদায়ন করা হচ্ছে।
নিজ জেলা বা নিকটবর্তী জেলায় কিংবা আত্মীয়পরিজনের এলাকায় দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের অন্যত্র বদলি করা হবে।
আগের তিনটি নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করেছেন এমন কর্মকর্তাদেরও বিরত রাখা হবে।
যত দ্রুত সম্ভব পোস্টিং দিয়ে ট্রেনিং শুরু করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সমন্বয় ও ডিসইনফরমেশন মনিটরিং সেল
বৈঠকে সরকার, নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এআই, ডিসইনফরমেশন ও মিসইনফরমেশন নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়।
প্রেস সচিব বলেন,
“সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনো অপপ্রচার ছড়িয়ে পড়লে দ্রুত ডিবাঙ্ক করা হবে— এ নিয়ে একটি সেন্ট্রাল ডিসইনফরমেশন মনিটরিং সেল ও সেন্ট্রাল কমিউনিকেশন সেল গঠনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।”
অধ্যাপক ইউনূস বলেন,
“সোশ্যাল মিডিয়ায় এআই-নির্ভর ছবি ও ভিডিওর মাধ্যমে অপপ্রচার চালানো হবে। এগুলো ছড়ানোর আগেই ঠেকাতে হবে।”
তিনি নির্দেশ দেন, শুধু শহর নয়, গ্রাম পর্যায়েও ফ্যাক্টচেক তথ্য পৌঁছানোর ব্যবস্থা করতে হবে।
সরকারি প্রচার ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি
নির্বাচনকেন্দ্রিক প্রচার ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমে তথ্য মন্ত্রণালয়, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন সংস্থা কাজ শুরু করেছে।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন:
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী,
জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান,
সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী,
প্রতিরক্ষা ও জাতীয় সংহতি বিষয়ক বিশেষ সহকারী লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আব্দুল হাফিজ,
আইসিটি বিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব,
মুখ্য সচিব মো. সিরাজ উদ্দিন মিয়া,
নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ,
স্বরাষ্ট্র সচিব নাসিমুল গণি,
মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশিদ,
পিএসও লে. জে. কামরুল হাসান,
আইজিপি বাহারুল আলম,
র্যাব ডিজি এ কে এম শহিদুর রহমান,
কোস্টগার্ড ডিজি রিয়ার এডমিরাল জিয়াউল হক,
আনসার ডিজি মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ
এবং গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআই, ডিজিএফআই ও এসবির প্রতিনিধিরা।





