নুরুল হক নুরের দাবি: পুলিশ ও সেনা সদস্যদের পরিকল্পিত হামলার শিকার হয়েছি

বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি, হামলার পেছনে সেনা কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ততার সন্দেহ

Posted by:

on

ঢাকা, ১২ অক্টোবর ২০২৫ | নিউজ চ্যানেল বিডি:
গত ২০ আগস্ট দলীয় কার্যালয়ের সামনে সংবাদ সম্মেলনের প্রস্তুতিকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর—বিশেষ করে পুলিশ ও সেনা সদস্যদের—বৃহৎ আক্রমণের শিকার হন নুরুল হক নুর, তার দলের সাধারণ সম্পাদকসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা।
এই ঘটনায় নুরের নাকের হাড় ভেঙে যায় এবং চোখের নিচে গুরুতর আঘাত লাগে, যা থেকে তিনি রক্তাক্ত হন।

নুর এই হামলাকে “তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে পূর্বপরিকল্পিত” বলে অভিহিত করেন। তার অভিযোগ, ঘটনার আগে পুলিশ বা সেনা কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে কোনো সতর্কতা বা নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন,

“এটি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংঘর্ষ ছিল না; আমরা মিছিল শেষে কার্যালয়ে ফেরার সময় পিছন থেকে হামলা করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বিনা উস্কানিতে হামলা চালায়—এমনকি বাথরুমে ঢুকে আমাদের ওপর আক্রমণ করে।”


🔹 বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি ও সেনা কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ততার সন্দেহ

নুরুল হক নুর জানান, তিনি ইতিমধ্যেই বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটির কাছে ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ জমা দিয়েছেন। তদন্ত কমিটি তাকে পুরো বিষয়টি লিখিত আকারে জমা দিতে বলেছে, যা তিনি শিগগিরই প্রদান করবেন বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন।

তার সন্দেহ, সেদিন ঘটনাস্থলে উপস্থিত কিছু কমান্ডিং অফিসার এই হামলায় প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত থাকতে পারেন।
নুর বলেন,

“এই হামলার উদ্দেশ্য ছিল পরিচিত রাজনৈতিক নেতাকে টার্গেট করে অন্যদের ভয় দেখানো—যাতে তারা কর্তৃপক্ষের নির্দেশের বাইরে না যায়।”


🔹 জাতীয় পার্টি প্রসঙ্গে মন্তব্য

নুরুল হক নুর ২৯ আগস্ট জাতীয় পার্টিকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া এক ঘটনার কথাও উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, “সেদিনের ঘটনায় দেশের জনগণের বিবেক আহত হয়েছে।”
ওই ঘটনায় বহু নেতা আহত হন, যার মধ্যে তিনিও ছিলেন।

নুরের দাবি, জাতীয় পার্টি সেদিন সারা দেশ থেকে নেতাকর্মীদের এনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে “নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা” করেছিল। তবে একই দিনে অন্যান্য সংগঠনের কর্মসূচি থাকায় পুলিশ প্রশাসন তাদের অনুমতি দেয়নি, যা তিনি “ইতিবাচক সিদ্ধান্ত” হিসেবে দেখেন।


🔹 জাতীয় পার্টি ও ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে সমালোচনা

জাতীয় পার্টিকে ‘আওয়ামী লীগের মতোই দোষের দুষ্ট’ আখ্যা দিয়ে নুর প্রশ্ন তোলেন,

“আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলেও, জাতীয় পার্টির জিএম কাদের, মহাসচিব বা তাদের পরিবারের বিরুদ্ধে কেন একই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না?”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, এই হামলার সঙ্গে জাতীয় পার্টির একটি “যোগসূত্র” বা “লিংক” থাকতে পারে।
তার মতে,

“স্বৈরাচারকে যারা ফিরিয়ে আনতে চায় তারা জাতীয় পার্টিকে পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে—যাতে তারা আবারও আওয়ামী লীগ বা ফ্যাসিবাদী শক্তিকে ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনতে পারে।”