প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশ: মিরপুরে অগ্নিকাণ্ডে তদন্ত শুরু

ঘটনাস্থল পরিদর্শনে সমাজকল্যাণ উপদেষ্টা, অবৈধ রাসায়নিক গুদামের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলনের আহ্বান ফায়ার ডিজির

ছবি:প্রধান উপদেষ্টার ফেইসবুক থেকে সংগ্রহীত

Posted by:

on

ঢাকা, ১৫ অক্টোবর ২০২৫ (নিউজ চ্যানেল বিডি):
রাজধানীর মিরপুরের শিয়ালবাড়িতে একটি পোশাক কারখানা ও রাসায়নিক গুদামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৬ জন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, মিরপুরের মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডের বিষয়ে অধ্যাপক ইউনূসকে অবহিত করা হয়েছে। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দেন এবং অগ্নিকাণ্ডে হতাহতদের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করেন।

গতকাল মঙ্গলবার ইতালির রোমে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে প্রেস সচিব এসব তথ্য জানান। অধ্যাপক ইউনূস খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) আয়োজিত বিশ্ব খাদ্য ফোরাম (ডব্লিউএফএফ) এ যোগদানের জন্য রোম সফরে ছিলেন।

প্রেস সচিবের ভাষায়, “আমরা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে আছি।”
তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশে এর আগেও রাসায়নিক কারখানায় এমন দুর্ঘটনা ঘটেছে। সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা সত্ত্বেও দেখা যাচ্ছে— কিছু লোক অবৈধভাবে এই ধরনের কারখানা স্থাপন করছে।”

দুই দিনের রোম সফর শেষে অধ্যাপক ইউনূস আজ সকালে দেশে ফেরেন।


ঘটনার বিবরণ

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, গতকাল সকাল ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে রাসায়নিক গুদামে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরে আগুন আনোয়ার ফ্যাশন গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি ও শাহ আলম কেমিক্যাল গুদামে ছড়িয়ে পড়ে।

দমকলকর্মীরা পোশাক কারখানার প্রথম ও দ্বিতীয় তলা থেকে ১৬ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠান।
এ ঘটনায় আরও আটজন দগ্ধ হয়েছেন; তাদের মধ্যে তিনজন বর্তমানে জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে (এনআইবিপিএস) চিকিৎসাধীন।


সরকারি পরিদর্শন ও প্রতিক্রিয়া

সমাজকল্যাণ উপদেষ্টা শারমিন এস. মুরশিদ আজ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি বলেন, “এই মারাত্মক অগ্নিকাণ্ডের জন্য দায়ীদের আইনের আওতায় আনা হবে।”
তিনি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা থেকে রাসায়নিক গুদামগুলোকে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরের ওপর জোর দেন।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল গতরাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। সাংবাদিকদের তিনি বলেন,
“অবৈধ রাসায়নিক গুদাম স্থাপনের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলুন।
এই ধরনের বিপজ্জনক গুদাম উচ্ছেদের জন্য প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিসের সহায়তা নিন।”

তিনি আরও জানান, মিরপুরের গুদামের আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও পুরোপুরি নেভাতে আরও দুই থেকে তিন দিন সময় লাগতে পারে।


বিশেষজ্ঞ দল মাঠে

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের পাঁচ সদস্যের একটি রাসায়নিক বিশেষজ্ঞ দল আজ গুদামটি পরিদর্শন করেছে।
দলটি প্রতিরক্ষামূলক পোশাক পরে ধোঁয়ার উৎস শনাক্ত ও প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে গুদামে প্রবেশ করে।

ঢাকা বিভাগের ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক কাজী নাজমুজ্জামান সাংবাদিকদের জানান,
“আগুন লাগার সময় রাসায়নিক গুদামটি তালাবদ্ধ ছিল। তাই আমাদের ধারণা— ভেতরে কেউ ছিল না। তবে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে এলে প্রকৃত চিত্র জানা যাবে।”