স্টাফ রিপোর্টার
ঢাকা, সোমবার, ২০ অক্টোবর ২০২৫ (নিউজ চ্যানেল বিডি):
ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর রাজনীতিকদের মধ্যে ঐক্যহীনতার প্রবণতা বাড়ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
সোমবার দুপুরে রাজধানীর কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটের মুক্তিযোদ্ধা মিলনায়তনে ‘বিশ্ববিদ্যালয় পরিক্রমা’ মাসিক ম্যাগাজিন আয়োজিত জিপিএ–৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।
🔹 “রাজনীতিবিদরা ঐক্য হারিয়ে ফেলছেন”
বিএনপি মহাসচিব বলেন,
“বর্তমানে এত বড় একটি অভ্যুত্থানের পরে এত বড় একটা সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে দেশকে নতুন করে গড়ে তোলার। কিন্তু আমরা যখন চারদিকে তাকাই, দেখি রাজনীতিবিদরা ঐক্য হারিয়ে ফেলছেন, অনেকেই চলে যাচ্ছেন। চারদিকে অনৈক্যের সুর, তখন আমরা অনেকেই হতাশ হয়ে পড়ি।”
তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা আবৃত্তি করে তরুণ প্রজন্মকে উদ্দেশ্য করে বলেন,
“ভবিষ্যৎ তোমাকে ডাকছে। এখন যারা যৌবনে পা দিচ্ছে, পৃথিবী তাদেরই জন্য অপেক্ষা করছে। পৃথিবী এখন প্রতিযোগিতার, তাই নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে—নচেৎ টিকতে পারবে না।”
🔹 “শিক্ষার মানের জন্য দায়ী রাজনীতিবিদ ও আমলারা”
দেশের বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থার মান নিয়ে সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন,
“আমাদের দুর্ভাগ্য, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত নিম্নমানের। এর জন্য দায়ী রাজনীতিবিদরা, আমরাই দায়ী, আমাদের আমলাতন্ত্র দায়ী। বিএ, এমএ পাশ করে অনেকে বেকার ঘুরে বেড়ায়—কারণ বাস্তবভিত্তিক শিক্ষা নেই।”
তিনি বলেন,
“যদি আমরা সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি ও টেকনিক্যাল ট্রেনিং চালু করতে পারতাম, তাহলে এই তরুণরা কর্মসংস্থান পেত। কিন্তু আজ দেশে কারিগরি শিক্ষা কেন্দ্রের অভাব রয়েছে।”
🔹 “শিক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কার প্রয়োজন”
বিএনপি মহাসচিব বলেন,
“শিক্ষকদের আন্দোলন চলমান, কিন্তু মূল সমস্যা হলো শিক্ষা ব্যবস্থার কাঠামো। আমাদের প্রয়োজন মেধাভিত্তিক উচ্চশিক্ষা এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য ভোকেশনাল ট্রেনিং। তবেই আমরা দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করতে পারবো।”
🔹 “জেন জি প্রজন্মকে এগিয়ে দিতে হবে”
তরুণ প্রজন্ম সম্পর্কে মির্জা ফখরুল বলেন,
“এখন একটি ট্রানজিশনাল পিরিয়ড চলছে—অস্থিরতা আছে, পরিবর্তন আসছে। এখানে উপস্থিত তরুণ প্রজন্ম ‘জেন জি’। তাদের ভাবনা আমাদের চেয়ে অনেক উন্নত, কারণ প্রযুক্তির দুনিয়ায় তারা জন্ম নিয়েছে। আমরা যেভাবে পৃথিবী বুঝতাম, তারা সেটাকে এক মোবাইল সেটের মধ্যেই পেয়ে যায়।”
তিনি আরও বলেন,
“এই জ্ঞানকে ধ্বংসের পথে নয়, মানবকল্যাণে কাজে লাগাতে হবে। সবাই মিলে যদি সুন্দর পৃথিবী গড়তে চাই, তাহলেই তা সম্ভব। আমাদের দোয়া, যেন তোমরা সত্যিকারের মানুষ হয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে পারো।”
🔹 অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক রাশেদা বেগম হীরা।
আলোচনায় আরও উপস্থিত ছিলেন—
ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির চেয়ারম্যান মো. সবুর খান,
বিএনপির সমাজকল্যাণ সম্পাদক কামরুজ্জামান রতন,
‘বিশ্ববিদ্যালয় পরিক্রমা’র প্রধান সম্পাদক হারুন অর রশিদ,
শিক্ষাবিদ এম এ সাজ্জাদ,
ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটের আহ্বায়ক কবীর হোসেন,
সদস্য সচিব কাজী শওকত হোসেন,
ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের অধ্যাপক সরকার মাহবুব আহমেদ শামীম,
এবং কৃতি শিক্ষার্থীরা।





